নজরবন্দি ব্যুরোঃ করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের দাপটে বিপদের মুখে স্বাথ্যকর্মী সহ শিক্ষাদফতর। কোভিডের (COVID-19) প্রথম ধাক্কায় সরকারি কর্মীদের জন্য ‘কোয়ারেন্টাইন লিভ’ চালু করেছিল রাজ্য সরকার। তৃতীয় ঢেউয়ের আবহে এবার রাজ্যের স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আধিকারিক ও শিক্ষাকর্মীদের জন্য চালু হল সবেতন নিভৃতবাসের ছুটি। স্কুলশিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা দফতর থেকে আলাদা করে এ বিষয়ে নির্দেশিকা জারি করেছে মঙ্গলবার।
আরও পড়ুনঃ ২৪ ঘন্টার ব্যাবধানে দ্বিগুণ সংক্রমণ কলকাতায়, কোভিডের তৃতীয় ঢেউয়ে উত্তাল বাংলা।
শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর বক্তব্য, সরকারি কর্মীদের সংক্রামক রোগের জন্য যে কোয়ারেন্টাইন ছুটি দেওয়া হয় তার সম্প্রসারণ করা হছে। এবার থেকে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও একই ছুটি চালু করল স্কুলশিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা দপ্তর। কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি সার্স, মার্স, অ্যাভিয়ান বা নোবেল ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং ক্রিমিয়ান কঙ্গো হোমারহেজিক ফিভারের জন্যও মিলবে কোয়ারেন্টাইন লিভ।
শিক্ষক, কর্মী ও আধিকারিকরা নিজে বা তাঁদের পরিবারের কেউ ওই সংক্রামক রোগগুলির কোনও একটিতে আক্রান্ত হলে সবেতন ছুটি পাবেন। চালু ছুটি যেমন সিএল, এমএল বা পিএল যা বরাদ্দ থাকে তা আগের মতই অপরিবর্তিত থাকবে। আক্রান্ত হওয়ার ২১ দিনের মধ্যে প্রামান্য নথি কর্তৃপক্ষকে দেখাতে হবে। বিশেষ ক্ষেত্রে প্রমাণ দেখাতে হবে ৩০ দিনের মধ্যে।
২০২০ সালের মার্চে এদেশে হানা দেয় কোভিড-১৯। প্রবল ছোঁয়াচে এই অসুখে ক্ষতি কমাতে নানা পদক্ষেপ করতে শুরু করে নবান্ন। দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর আগে স্কুলে শুধুমাত্র নবম থেকে দ্বাদশের ক্লাস হয় কিছুদিন। গত বছর ১৬ নভেম্বর দ্বিতীয় দফায় ফের চালু হয় নবম থেকে দ্বাদশের ক্লাস। লকডাউনের পর প্রথমবার খুলেছিল কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজা। কিন্তু অতিমারির তৃতীয় ঢেউ প্রভাবে ৩রা জানুয়ারি থেকে ফের বন্ধ করা হয়েছে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সরকার নির্দেশ দিয়েছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পড়াশোনা হবে শুধুমাত্র অনলাইনে।
স্কুল বন্ধ থাকলেও নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের ৫০ শতাংশকে প্রতিষ্ঠানে হাজিরা দিতে হবে। কোভিডের প্রথম ঢেউ থেকেই শিক্ষকরা কোয়ারেন্টাইন লিভের দাবি করেছিলেন। সেই দাবি মান্যতা পাওয়ার পর শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী-শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের কিংকর অধিকারী, প্রধানশিক্ষক সংগঠনের কর্তা চন্দন মাইতি, এসটিইএ-র অনিমেষ হালদাররা শিক্ষা দপ্তরকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
কোভিডের মাঝে সুপার সাইক্লোন আমফান আছড়ে পড়েছিল রাজ্যের উপকূল এলাকায়। ব্যপক ক্ষতি হয়েছিল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিরও। ক্ষত নিরাময়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ক্ষতিপুরণ দাবি করলেও তা মেলেনি বলে অভিযোগ। রাজ্যের নিজস্ব তহবিল থেকেই প্রতিষ্ঠানগুলি সংস্কার হয়েছে। অপর দিকে যে সব স্কুলের হোস্টেল রয়েছে, সেগুলিকে বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে যদি কোনও ছাত্র-ছাত্রী হোস্টেল থেকে যেতে না পারে তবে তাঁরা যাতে চিকিত্সা পরিষেবা ঠিকমতো পেতে পারেন, সেই ব্যবস্থা রাখার কথাও বলা হয়েছে নির্দেশিকায়।
বছরের ছুটি থেকে কাটা যাচ্ছে শিক্ষকদের ‘কোয়ারেন্টাইন লিভ’? জারি নির্দেশিকা

একইসঙ্গে ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সি ছাত্র-ছাত্রীদের ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজ চলচ্ছে। পাশাপাশি বই-খাতা স্কুলের মাধ্যমে শুধুমাত্র অভিভাবকদের দেওয়া হবে। এছারাও শিক্ষক-শিক্ষিকারা পঠন-পাঠন সংক্রান্ত পরামর্শ দিতে যাতে ছাত্রছাত্রীদের বাড়ি যান, সেই কথাও উল্লেখ করা হয়েছে নির্দেশিকায়।



