পাকিস্তানের খ্যাতনামা সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী তাহা সিদ্দিকী (Taha Siddiqui) এক বিস্ফোরক দাবি করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছেন আন্তর্জাতিক মহলে। তাঁর অভিযোগ, দিল্লি ও ইসলামাবাদের সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের পেছনে পাকিস্তান সেনার (Pakistan Army) প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে।
সিদ্দিকী সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (X)-এ একটি পোস্ট করে বলেন, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বছরের পর বছর ধরে সন্ত্রাসবাদকে “বৈদেশিক নীতির হাতিয়ার” হিসেবে ব্যবহার করছে, যার প্রভাব পড়ছে ভারতের মতো প্রতিবেশী দেশেও। তিনি আরও দাবি করেন, সেনা শুধু দেশের রাজনীতি নয়, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও সংবাদমাধ্যমকেও নিয়ন্ত্রণ করছে।


এই পোস্টের পর পাকিস্তান ও আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সিদ্দিকীর অভিযোগ এমন সময় সামনে এসেছে, যখন দিল্লির লালকেল্লা বিস্ফোরণ (Red Fort Blast) নিয়ে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ (Jaish-e-Mohammed)-এর যোগসূত্র ইতিমধ্যেই প্রকাশ পেয়েছে। একই সময়ে ইসলামাবাদেও ঘটে এক সন্দেহজনক বিস্ফোরণ, যার তদন্ত এখনও চলছে।

তাহা সিদ্দিকী দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তান সেনার নীতি ও সংবাদমাধ্যমে তাদের প্রভাব নিয়ে সরব। ২০১৮ সালে করাচি বিমানবন্দরে তাঁকে অপহরণের চেষ্টা করা হয়, যার পর তিনি ফ্রান্সে নির্বাসনে চলে যান। তারপর থেকে তিনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে পাকিস্তানের সামরিক প্রভাব ও মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে ধারাবাহিকভাবে লেখালিখি করছেন।
তাঁর এই নতুন অভিযোগ পাকিস্তানের সাংবাদিক সমাজকেও দ্বিধাবিভক্ত করেছে। একাংশ সিদ্দিকীর পাশে দাঁড়িয়ে বলছেন, “এই অভিযোগগুলোকে গুরুত্ব সহকারে নেওয়া উচিত”, আবার অন্যরা মনে করছেন, এটি একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মন্তব্য।


এদিকে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই দাবির কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। তবে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, তাহা সিদ্দিকীর অভিযোগ পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কারণ অতীতেও পাকিস্তানের সেনা ও গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই (ISI)-এর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার অভিযোগ বহুবার উঠেছে।
ভারতের নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই দাবি একেবারেই সময়োপযোগী। দিল্লির লালকেল্লা বিস্ফোরণের তদন্তে যে তথ্য উঠে আসছে, তা পাকিস্তানভিত্তিক নেটওয়ার্কের সম্ভাবনা আরও জোরদার করছে। বিশেষত, ইসলামাবাদের বিস্ফোরণ এবং দিল্লির ঘটনাটি প্রায় একই সময় ঘটায় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
তাহা সিদ্দিকী তাঁর পোস্টে লেখেন, “পাকিস্তান সেনা আমাদের রাষ্ট্রকে জিম্মি করেছে। তারা বিদেশে সন্ত্রাসবাদকে রপ্তানি করছে, আর দেশের ভেতরে গণতন্ত্রকে দমন করছে।” তাঁর বক্তব্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই নড়েচড়ে বসেছে কূটনৈতিক মহল।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানা গেছে, দিল্লি বিস্ফোরণ মামলার তদন্তে পাকিস্তান সংযোগের বিষয়টি ইতিমধ্যেই গোয়েন্দা স্তরে গুরুত্ব পাচ্ছে। ভারতের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা এখন পাকিস্তানের দিক থেকে আসা ডিজিটাল কমিউনিকেশন ট্রেস করছে।
অন্যদিকে ইসলামাবাদে ঘটনার তদন্তও জটিল হয়ে উঠছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, বিস্ফোরণের পেছনে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার হাত থাকতে পারে। তবে পাকিস্তান প্রশাসন এই বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
তবে ইতিহাস বলছে, পাকিস্তানের সামরিক মদতে ভারত-বিরোধী জঙ্গি কার্যকলাপের নজির নতুন নয়। পাঠানকোট (২০১৬), পুলওয়ামা (২০১৯) এবং মুম্বই হামলা (২০০৮)—সব ক্ষেত্রেই পাকিস্তানভিত্তিক সংগঠনগুলির সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। লালকেল্লা বিস্ফোরণের পর ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি হাই অ্যালার্টে, এবং সীমান্ত পেরিয়ে আসা সন্দেহজনক কোনও কার্যকলাপের ওপর কড়া নজরদারি চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি তাহা সিদ্দিকীর অভিযোগ সত্যি হয়, তবে এটি শুধু পাকিস্তানের ভেতরের নয়, দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে বড়সড় প্রভাব ফেলবে।








