নজরবন্দি ব্যুরোঃ রাজ্যে রেশন দুর্নীতি মামলায় তদন্ত চালাচ্ছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী তথা বর্তমান বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। বাকিবুর রহমানের মত একাধিক রেশন দুর্নীতির মাথাকে খুঁজে বার করেছে ইডি। একদিকে যখন তদন্ত চালাচ্ছে ইডি তখন ফের বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এবার কৃষকদের থেকে ধান কেনার টাকাতেও পাহাড় প্রমাণ বেনিয়মের অভিযোগ আনলেন শুভেন্দু।
আরও পড়ুনঃ মমতা-গিরিরাজ বিতর্কে উত্তাল বিধানসভা, অধিবেশনেই TMC-BJP বাগযুদ্ধ
বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্য সরকারকে তুলোধনা করলেন শুভেন্দু। পরিসংখ্যান তুলে ধরে বললেন, “গত বছর ধান বিক্রির জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন ২৯ লাখ কৃষক। এবার বাকিবুর রহমান, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকরা গ্রেফতার হওয়ার পর মাত্র ১১ লাখ কৃষক রেজিস্ট্রেশন করেছেন।” অর্থাৎ কৃষকের সংখ্যা কমে গিয়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন শুভেন্দু অধিকারী।

বিরোধী দলনেতার দাবি, কৃষকদের থেকে ধান কেনার টাকা রাজ্যকে অগ্রিম পাঠায় কেন্দ্রীয় সরকার। গত বছর পর্যন্ত ‘১৮ লাখ ভুয়ো রেজিস্ট্রেশন’ করিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পাঠানো ‘৫ হাজার কোটি টাকা লুঠ’ করা হয়েছে বলে দাবি তাঁর। শুভেন্দুর আরও অভিযোগ, “দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গ পর্যন্ত, প্রত্যেক জায়গায় ধানে কুইন্টাল পিছু ৫-১০ কেজি কেটে নেওয়া হচ্ছে। একজন কৃষক যদি ২০ কুইন্টাল ধান কৃষক মান্ডি বা সমবায়ে জমা দেয়, সেখান থেকে ১ কুইন্টাল ধান কেটে নেওয়া হচ্ছে। কৃষকদের থেকেও টাকা লুঠ করতে চাইছে এই সরকার।”
বালু গ্রেফতারের পর রাজ্যে কৃষকের সংখ্যা কমল ৭০ শতাংশ, ৫ হাজার কোটি দুর্নীতির অভিযোগ

এখানেই থামেননি শুভেন্দু, কেন্দ্রীয় সরকারের ভর্তুকি-যুক্ত সার বিক্রি ঘিরেও ব্যাপক বেনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী দলনেতা। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী তুলে ধরেন বাংলার কৃষকদের ‘দুরাবস্থার’ কথা। তিনি বলেন, ইউরিয়া সারের বস্তার দাম আগে ছিল ৩৬০০ টাকা। এখন মোদী সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে, সেই দাম কমিয়ে ১২০০ টাকা করেছে। কিন্তু, পশ্চিমবঙ্গে সেই ইউরিয়া সার বস্তা পিছু ২৫০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে।”



