সুপ্রিম কোর্টে বড় স্বস্তি সুমিত রায়ের, জমি-দুর্নীতি মামলায় আপাতত গ্রেফতার নয়; তদন্তে সহযোগিতার নির্দেশ

জমি-দুর্নীতি মামলায় সুপ্রিম কোর্টে অন্তর্বর্তী স্বস্তি পেলেন সুমিত রায়। পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত গ্রেফতার করা যাবে না, তবে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে বলে জানিয়েছে শীর্ষ আদালত।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরো: জমি-দুর্নীতি মামলায় আপাতত গ্রেফতারির আশঙ্কা থেকে স্বস্তি পেলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)-এর আপ্তসহায়ক সুমিত রায় (Sumit Roy)। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) নির্দেশ দিয়েছে, পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত এই মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না। তবে একইসঙ্গে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করেছে, তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে সুমিতকে এবং নির্দিষ্ট সময়ে পুলিশ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত (Surya Kant), বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী (Joymalya Bagchi) এবং বিচারপতি ভি. মোহনা (V. Mohan)-র বেঞ্চ জানিয়েছে, মামলার পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে কোনও গ্রেফতারিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। আগামী সপ্তাহেই এই মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে আদালত তদন্তে কোনও বাধা সৃষ্টি করতে চায়নি। সেই কারণেই সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সুমিত রায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পুলিশের উপর কোনও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি। তদন্তকারী সংস্থাকে প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁকে জেরা করার অনুমতিও দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

বৃহস্পতিবারের শুনানিতে কেন্দ্রের সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা (Tushar Mehta) সুমিত রায়ের গ্রেফতারির উপর স্থগিতাদেশের বিরোধিতা করেন। তিনি আদালতে জানান, মামলার সমস্ত নথি এখনও তাঁদের হাতে পৌঁছায়নি। তাই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য পেশ করার জন্য কিছু সময়ের আবেদনও জানান।

অন্যদিকে, সুমিত রায়ের আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ (Gopal Sankaranarayanan) আদালতে দাবি করেন, তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে যে জমি-দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে, তা ২০২১ সালের ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত। অথচ ওই ঘটনায় ২০২৬ সালের জুন মাসে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই এই মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি আদালতকে আশ্বস্ত করেন, কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)-এর নির্দেশ মেনে সুমিত তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবেন।

এই মামলার আগে সুমিত রায় আগাম জামিনের আবেদন নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। গত সোমবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ (Tirthankar Ghosh) জমি-দুর্নীতি মামলায় তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেন। যদিও চাকরি-দুর্নীতির একটি পৃথক মামলায় শর্তসাপেক্ষে তাঁকে আগাম জামিন দেওয়া হয়। সেই নির্দেশ অনুযায়ী তদন্তকারী সংস্থার ডাকে হাজিরা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল।

সুমিত রায়ের আশঙ্কা ছিল, চাকরি-দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দিতে গেলে জমি-দুর্নীতি মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে। সেই কারণেই হাই কোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন এবং জরুরি শুনানির আবেদন জানান। বৃহস্পতিবার সেই আবেদন শুনেই আপাতত তাঁকে রক্ষাকবচ দেয় শীর্ষ আদালত।

তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি (Salboni)-তে সরকারি জমি ভুয়ো নথির মাধ্যমে দখল ও বিক্রির একটি চক্রের সঙ্গে সুমিত রায়ের যোগসূত্র রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, টাকার বিনিময়ে সরকারি জমি বিক্রি এবং জাল নথি তৈরির কাজ চলত, যার তদন্ত চলছে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে সুমিত রায়ের পক্ষ দাবি করেছে, তাঁকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে মামলায় জড়ানো হয়েছে। এই অভিযোগগুলির বিচার এখনও আদালতে হয়নি এবং তদন্তও চলছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন