যৌন অপরাধ সংক্রান্ত একটি বিতর্কিত রায়ে শেষ পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করল সুপ্রিম কোর্ট। এলাহাবাদ হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণকে খারিজ করে শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিল, স্তনে হাত দেওয়া বা পাজামার দড়ি ধরে টানাকে ধর্ষণের চেষ্টা হিসেবেই গণ্য করা হবে। এই রায়ের মাধ্যমে যৌন অপরাধের মামলায় সংবেদনশীলতার গুরুত্ব আবারও তুলে ধরল দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। এর আগে এলাহাবাদ হাই কোর্টের একটি বেঞ্চ জানিয়েছিল, স্তন স্পর্শ করা বা পাজামার ফিতে খোলা ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেষ্টা নয়, বরং শারীরিক নিগ্রহের পর্যায়ে পড়ে। সেই রায়কে ঘিরেই দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছিল।
গত বছরের মার্চে সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি বিআর গবই এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মাসিহের বেঞ্চ এই রায়ের উপর স্থগিতাদেশ দেয়। শীর্ষ আদালত তখনই মন্তব্য করেছিল, হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত ‘অসংবেদনশীল ও অমানবিক’।
সুপ্রিম কোর্টের মতে, যৌন অপরাধ সংক্রান্ত মামলায় বিচারব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকেরই আরও সংবেদনশীল হওয়া জরুরি। এই বিষয়ে নির্দেশিকা তৈরির জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশও দিয়েছে আদালত।
প্রসঙ্গত, এলাহাবাদ হাই কোর্টের বিচারপতি রাম মনোহর নারায়ণ মিশ্রার বেঞ্চ ওই বিতর্কিত পর্যবেক্ষণ দিয়েছিল। সেই রায়ের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে পদক্ষেপ নেয় সুপ্রিম কোর্ট। তৎকালীন বেঞ্চ জানিয়েছিল, এমন রায়ে সংবেদনশীলতার অভাব রয়েছে এবং বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর।
এ দিন চূড়ান্ত রায়ে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিল, এই ধরনের আচরণকে ধর্ষণের চেষ্টার আওতাতেই ধরা হবে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের মামলায় সংবেদনশীলতার সঙ্গে বিচার করার উপর জোর দিল শীর্ষ আদালত।



