এসআইআর বিতর্কে বড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের, মমতার দাবি মেনে আদালতের নজরদারিতেই হবে নথি যাচাই

এসআইআর নথি যাচাইয়ে প্রশাসনের বদলে আদালত নিযুক্ত আধিকারিকদের দায়িত্ব দিল সুপ্রিম কোর্ট।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সংঘাতের মাঝেই নজিরবিহীন নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় নথি যাচাই এবার থেকে করবে আদালত নিযুক্ত ‘জুডিশিয়াল অফিসার’রা—এমন নির্দেশ দিয়ে কার্যত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবিকেই মান্যতা দিল দেশের শীর্ষ আদালত। ফলে প্রশাসনিক নয়, বিচারবিভাগীয় নজরদারিতেই চলবে যাচাই প্রক্রিয়া।

শুক্রবার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, মাইক্রো অবজার্ভার বা রোল অবজার্ভার নয়, বরং কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি ‘জুডিশিয়াল অফিসার’ নিয়োগ করবেন। জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজদের এই দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। তাঁদের কাজে পরামর্শ দেবেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিরা।

Shamim Ahamed Ads

প্রধান বিচারপতির স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, এই বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নির্দেশই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে এবং তা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ হিসেবেই বিবেচিত হবে। অর্থাৎ নথি যাচাই সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে তাঁদের মতই শেষ কথা।

রাজ্যের পক্ষ থেকে আইনজীবী কপিল সিব্বল আদালতে জানান, পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় বিচারবিভাগীয় আধিকারিক নিয়োগে প্রশাসনিক চাপ তৈরি হতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তবে আদালত সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি। প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, রাজ্য সহযোগিতা করবে বলে আদালত আশা করেছিল, কিন্তু রাজ্যের ভূমিকায় তারা হতাশ।

সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, নিযুক্ত জুডিশিয়াল অফিসারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে রাজ্য পুলিশের ডিজি ও সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারদের। পাশাপাশি শনিবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়ালকে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বৈঠকে বসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি পীযূষ পাণ্ডে।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগ সম্পন্ন করতে হবে। এরপর তাঁদের তত্ত্বাবধানে সমস্ত নথি যাচাই করা হবে এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ পাবে এসআইআর তালিকা। প্রয়োজন হলে পরে অতিরিক্ত তালিকাও প্রকাশ করা যেতে পারে।

এসআইআর মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে মার্চের প্রথম সপ্তাহে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই নির্দেশ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিচারবিভাগীয় নজরদারির এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত