সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বড় স্বস্তি পেলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর স্পষ্ট করে জানিয়ে দিল শীর্ষ আদালত—মার্চ মাসের মধ্যেই বকেয়া ডিএ-র অন্তত ২৫ শতাংশ মেটাতে হবে রাজ্য সরকারকে। শুধু তাই নয়, বাকি ৭৫ শতাংশ ডিএ কী ভাবে এবং কবে দেওয়া হবে, তার রূপরেখা তৈরি করতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠনেরও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি ঘিরে এই রায় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কলকাতা হাই কোর্টের দেওয়া আগের রায় বহাল রেখেই সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, রোপা বিধি অনুযায়ী ডিএ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের আইনগত অধিকার—তা খর্ব করা যায় না।
ডিএ মামলা শুরু হয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের সমহারে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার দাবিকে সামনে রেখে। স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনাল, কলকাতা হাই কোর্ট হয়ে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। ২০২২ সালের ২০ মে কলকাতা হাই কোর্ট রাজ্যের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছিল এবং বকেয়া ডিএ মেটানোর নির্দেশ দিয়েছিল।
সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকার শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়। শুনানি চলাকালীন রাজ্য সরকারের দাবি ছিল, ডিএ কোনও মৌলিক অধিকার নয় এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণেই কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়া সম্ভব নয়। এমনকি রাজ্য সরকার আশঙ্কা প্রকাশ করে আদালতে জানায়, কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দিতে গেলে রাজ্য দেউলিয়া হয়ে যেতে পারে।
অন্যদিকে, কর্মচারীদের তরফে জোর দিয়ে বলা হয়—রোপা রুলস অনুযায়ী ডিএ বেতনের অংশ এবং একবার আইন তৈরি হলে সরকার তা অমান্য করতে পারে না। একই রাজ্য সরকারের কর্মচারীদের মধ্যে ভৌগোলিক অবস্থানের ভিত্তিতে ডিএ-তে বৈষম্য সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন বলেও দাবি করা হয়।
সব যুক্তি খতিয়ে দেখে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, আর্থিক অসুবিধা কোনও অজুহাত হতে পারে না। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, রাজ্য সরকারের আইএএস, আইপিএস অফিসাররা পুরো ডিএ পাচ্ছেন—সেই পরিস্থিতিতে সাধারণ কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ডিএ বন্ধ রাখা যুক্তিসঙ্গত নয়।
চূড়ান্ত রায়ে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, মার্চ মাসের মধ্যেই রাজ্য সরকারকে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দিতে হবে। পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটিই ঠিক করবে, বাকি ৭৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ কী ভাবে এবং কতগুলি কিস্তিতে পরিশোধ করা হবে।
এই রায়ের ফলে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের আন্দোলন এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিল বলেই মনে করছে কর্মী সংগঠনগুলি। যদিও সম্পূর্ণ ডিএ কবে মিলবে, সে প্রশ্নের উত্তর এখনও কমিটির সিদ্ধান্তের উপরেই নির্ভর করছে।



