সুপ্রিম কোর্টে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিয়ারনেস অ্যালোওয়েন্স বা ডিএ) মামলায় আর কোনও কৌশলগত পথ খোলা নেই রাজ্য সরকারের—এমনই জোরালো দাবি করল রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন। দীর্ঘ দিনের আইনি লড়াইয়ের শেষে এখন শুধু রায়ের অপেক্ষা। আর সেই রায় ঘিরেই আশায় বুক বাঁধছেন হাজার হাজার রাজ্য সরকারি কর্মচারী।
উত্তর দিনাজপুরের জেলা সম্মেলনের মঞ্চ থেকে Confederation of State Government Employees-এর সাধারণ সম্পাদক Malay Mukhopadhyay দাবি করেন, সুপ্রিম কোর্টে বকেয়া ডিএ মামলার শুনানি সম্পূর্ণ শেষ হয়ে গিয়েছে। তাঁর কথায়, “আমাদের আইনজীবী জানিয়েছেন, সরকারের সব রাস্তা বন্ধ। শুনানি শেষ। এখন শুধু রায় বেরোনোর অপেক্ষা। রায় প্রকাশিত হলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
আসলে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের একাংশের আশা ছিল, ২০২৫ সালের মধ্যেই ডিএ মামলার রায় ঘোষণা হয়ে যাবে। যদিও এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত রায় হয়নি। এই প্রেক্ষিতেই কনফেডারেশনের তরফে ফের একবার চাপ বাড়ানোর বার্তা। মলয় মুখোপাধ্যায়ের দাবি, তাঁদের আইনজীবী Vikash Ranjan Bhattacharyya স্পষ্ট জানিয়েছেন—রায় কর্মচারীদের পক্ষেই যাবে বলে তাঁর দৃঢ় ধারণা।
তবে রায়ের পর রাজ্য সরকার যদি বকেয়া ডিএ না মেটায়, সে ক্ষেত্রেও সংগঠন যে পিছিয়ে থাকবে না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন কনফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক। তাঁর বক্তব্য, “সরকার না দিলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করা হবে। ছেড়ে দেওয়া হবে না। বেশি দিন সময় লাগবে না।”
কনফেডারেশনের দাবি, রায়ের পরে সরকার চাইলে রিভিউ পিটিশন দাখিল করতে পারে। কিন্তু সেই পথে গিয়ে কোনও লাভ হবে না বলেই আইনজীবীদের মত। উত্তর দিনাজপুরের সভামঞ্চ থেকে মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, “রিভিউ করে সরকারের কোনও ফায়দা হবে না—এ কথা আমাদের আইনজীবীরাই জানিয়েছেন।”


এই ডিএ মামলার ইতিহাসও দীর্ঘ। ২০১৬ সাল থেকে পঞ্চম বেতন কমিশনের আওতায় বকেয়া ডিএ নিয়ে মামলা চলছে। প্রথমে স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনাল (স্যাট), তারপর কলকাতা হাইকোর্ট—একাধিক ধাপ পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত কর্মচারীদের পক্ষেই রায় দেয় হাইকোর্ট। নির্দেশ ছিল, তিন মাসের মধ্যে বকেয়া ডিএ মেটাতে হবে। কিন্তু রাজ্য সরকার সেই নির্দেশ কার্যকর করেনি।
পরবর্তী সময়ে ২০২২ সালের নভেম্বরে রাজ্য সরকার Supreme Court of India-তে স্পেশাল লিভ পিটিশন দাখিল করে। দীর্ঘ শুনানির পরে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মামলার শুনানি শেষ হয়। তবে এখনও পর্যন্ত রায় ঘোষণা হয়নি।

সব মিলিয়ে, ডিএ মামলার ভবিষ্যৎ এখন পুরোপুরি সুপ্রিম কোর্টের রায়ের উপর নির্ভরশীল। সেই রায় কর্মচারীদের পক্ষে এলে রাজ্য সরকারের সামনে আর কতটা পথ খোলা থাকবে—সেই দিকেই এখন তাকিয়ে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহল।









