নজরবন্দি ব্যুরোঃ পাকিস্তানের বালুচিস্তান প্রদেশে একটি ধর্মীয় সমাবেশে মানববোমার হামলা! মাস্তং জেলার সদর শহরে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ প্রাণ গেল ৫২ জনের। আহত হয়েছেন প্রায় দেড়শো জনের কাছাকাছি। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রশাসনের। এই বিস্ফোরণে একজন পুলিশ অফিসারেরও মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ কাবেরীর জলবন্টন নিয়ে উত্তপ্ত বেঙ্গালুরু, জারি ১৪৪ ধারা, বাতিল বহু বিমান


পাক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, শুক্রবার বালুচিস্তানের মাস্তুং এলাকার এক মসজিদে ঈদ-এ-মিলাদ উপলক্ষ্যে মানুষের জমায়েত হয়েছিল। এই মসজিদের নাম আল-ফালাহ। ধর্মীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে প্রচুর মানুষ উপস্থিত ছিলেন এখানে। চলছিল প্রার্থনা। এলাকায় পুলিশের নজরদারিও ছিল ভালোই।

সমাবেশ চলাকালীনই এক ব্যক্তি নিজের শরীরে বোমা বেধে ভিড়ের মধ্যে মিশে যায় এবং বিস্ফোরণটি ঘটায়। অর্থাৎ যাকে বলা হয় মানববোমা! বিস্ফোরণের তীব্রতাও ছিল মারাত্মক। কেঁপে ওঠে মাস্তুং এলাকা। ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় সমাবেশে উপস্থিত মানুষদের দেহ। আতঙ্কে দৌড়াদৌড়ি শুরু করেন সকলেই।


#UPDATE At least 25 people were killed and dozens more wounded on Friday by a suicide bomber targeting a procession marking the birthday of Islam’s Prophet Mohammed in Pakistan’s southwestern Balochistan province ➡️ https://t.co/nUjUNhJnH9 pic.twitter.com/iNG84PPZpW
— AFP News Agency (@AFP) September 29, 2023

সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে পুলিশ বাহিনী। প্রায় দেড়শোর বেশি মানুষ এই বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন। তাঁদের অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। উদ্ধার করা হয় মৃতদেহ। এখনও পর্যন্ত ৫২ জনে মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। মারা গিয়েছেন এক পুলিশ কর্তাও। জরুরিকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চলছে সেখানে। খুব দ্রুত শুরু হবে তদন্ত।
পাকিস্তানে ধর্মীয় সমাবেশে মানববোমার হামলা, মৃত পঞ্চাশের বেশি, বিধ্বস্ত বালুচিস্তান!
আসলে, এই বিস্ফোরণের নেপথ্যে বেশ কিছু কারণ রয়েছে বলে মত কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। বালুচিস্তান পাকিস্তানের মধ্যে প্রাকৃতিক সম্পদে সবচেয়ে এগিয়ে। আর চিনের সাথে হাত মিলিয়ে বালুচিস্তানকে লুটে নিচ্ছে পাকিস্তান এরকম একটা অভিযোগ রয়েছে সে প্রদেশের মানুষদের মধ্যে। তাঁরা স্বাধীন প্রদেশের দাবিও জানিয়ে থাকেন। তাছাড়া ‘বালুচ ন্যাশনালিস্ট আর্মি’ (বিএনএ), ‘বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি’ (বিএলএ), তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-র মতো স্বাধীনতাপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিও প্রাকৃতিক সম্পদ লুটের বিরোধী। সেক্ষত্রে তাঁদের পক্ষ থেকেও এই হামলা হতে পারে। তবে, টিটিপি বিস্ফোরণের পরই বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, এই ঘটনায় তাঁদের কোনও ভূমিকা নেই।








