চিনির দাম কমাতে বড় পদক্ষেপ মোদী সরকারের, আমদানি করা চিনি ২ মাসেই বাজারে বিক্রির নির্দেশ

চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে ১০ লক্ষ টন কাঁচা চিনি শুল্কমুক্ত আমদানির পর এবার নিয়ম বদল করল কেন্দ্র। আমদানি করা চিনি দু’মাসের মধ্যে পরিশোধন করে দেশের বাজারে বিক্রি বাধ্যতামূলক।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

চিনির দাম দ্রুত বাড়ায় বাজারে জোগান স্বাভাবিক রাখতে আরও কড়া পদক্ষেপ করল কেন্দ্র। আমদানি করা কাঁচা চিনি দ্রুত পরিশোধন করে দেশের বাজারে ছাড়ার সময়সীমা বদলে দিল কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নিয়মে, আমদানিকারককে Bill of Entry জমা দেওয়ার তারিখ থেকে সর্বোচ্চ দু’মাসের মধ্যে কাঁচা চিনি সাদা বা পরিশোধিত চিনিতে রূপান্তর করে তা দেশের বাজারে বিক্রি করতে হবে। এর ফলে আগের নির্দিষ্ট ৩১ অক্টোবরের সময়সীমা আর প্রযোজ্য থাকছে না।

চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে এর আগে ১০ লক্ষ মেট্রিক টন কাঁচা চিনি শুল্কমুক্ত আমদানির অনুমতি দিয়েছিল কেন্দ্র। Tariff Rate Quota (TRQ)-র আওতায় এই আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। উৎসবের মরসুমের আগে দেশের বাজারে সরবরাহ বাড়ানো এবং দামের ঊর্ধ্বগতি ঠেকানোই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য।

আগের নিয়মে আমদানি করা কাঁচা চিনি পরিশোধন করে ৩১ অক্টোবর, ২০২৬-এর মধ্যে দেশের বাজারে বিক্রি করার শর্ত ছিল। নতুন সংশোধিত নিয়মে সেই একক সময়সীমা তুলে দিয়ে প্রতিটি চালানের জন্য আলাদা করে দু’মাসের সময় দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ Bill of Entry যে তারিখে জমা পড়বে, সেই তারিখ থেকেই সর্বোচ্চ দুই মাসের মধ্যে প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে বিক্রির কাজ শেষ করতে হবে।

কেন্দ্রের এই পদক্ষেপের পিছনে রয়েছে চিনির দামের সাম্প্রতিক অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। গত কয়েক সপ্তাহে দেশের বাজারে চিনির দাম উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই মাসে দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। তবে ইন্ডিয়ান সুগার অ্যান্ড বায়ো-এনার্জি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের এক শীর্ষ কর্তার মতে, এই মূল্যবৃদ্ধির পিছনে প্রকৃত ঘাটতির চেয়ে জল্পনামূলক কেনাকাটার ভূমিকা বেশি।

উৎসবের মরসুম সামনে থাকায় চিনির চাহিদা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। গণেশ চতুর্থী, দশেরা ও দীপাবলির মতো উৎসবকে কেন্দ্র করে অগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত দেশে চিনির ব্যবহার সাধারণত বেড়ে যায়। সেই সময় বাজারে পর্যাপ্ত জোগান বজায় রাখতেই আমদানির পাশাপাশি মজুতের উপরও নজরদারি বাড়িয়েছে সরকার।

এর আগে চিনি ব্যবসায়ীদের মজুতের উপরও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে কেন্দ্র। ১ অগস্ট থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ডিলারদের সর্বোচ্চ ৪০০ টন চিনি মজুত রাখার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ১ সেপ্টেম্বর থেকে মাসে ১০ মেট্রিক টনের বেশি চিনি ব্যবহার করেন এমন বড় ক্রেতারা ১৫ দিনের বেশি প্রয়োজনীয় মজুত রাখতে পারবেন না। সরকারের বক্তব্য, এর উদ্দেশ্য মজুতদারি, কৃত্রিম ঘাটতি এবং অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রুখে দেওয়া।

চিনির জোগান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার পর প্রায় এক দশকের ব্যবধানে বিদেশ থেকে কাঁচা চিনি আমদানির পথ খুলেছে ভারত। ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত TRQ-র আওতায় ১০ লক্ষ টন কাঁচা চিনি শুল্ক ছাড়াই আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সরকার আশা করছে, আমদানি করা চিনি দ্রুত পরিশোধন করে বাজারে ছাড়া গেলে উৎসবের মরসুমে সরবরাহের চাপ কিছুটা কমবে।

এদিকে চিনির জোগান ও ইথানল উৎপাদন নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। চলতি মরসুমে আখ থেকে চিনি উৎপাদনের পাশাপাশি ইথানল তৈরিতে চিনির ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে সরকারি বক্তব্য অনুযায়ী, ইথানল উৎপাদনে চিনির ব্যবহার সময়ের সঙ্গে কমেছে এবং মোট ইথানল উৎপাদনের বড় অংশ এখন দানাশস্য থেকেও আসে। ফলে চিনির বর্তমান মূল্যবৃদ্ধিকে শুধুমাত্র ইথানল নীতির ফল হিসেবে দেখছে না কেন্দ্র।

সব মিলিয়ে, চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্র একসঙ্গে একাধিক পথে এগোচ্ছে—শুল্কমুক্ত আমদানি, মজুতের সীমা এবং আমদানি করা কাঁচা চিনি দ্রুত পরিশোধন করে বাজারে ছাড়ার বাধ্যবাধকতা। নতুন দুই মাসের সময়সীমা কার্যকর হওয়ার পর বাজারে সরবরাহ কতটা বাড়ে এবং তার প্রভাব খুচরো দামে কত দ্রুত পড়ে, এখন সেদিকেই নজর ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন