দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিরুদ্ধে আসন্ন সিরিজের স্কোয়াড থেকে ভারতের ব্যাটসম্যান সরফরাজ খানকে বাদ দেওয়ার পর শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। কংগ্রেস মুখপাত্র শামা মহম্মদ এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এক্স হ্যান্ডলে #justasking হ্যাশট্যাগ দিয়ে পোস্টে তিনি লিখেছেন, সরফরাজ কেন বাদ পড়লেন এবং প্রাক্তন বিজেপি এমপি গৌতম গম্ভীরের ভূমিকা নিয়ে কৌতূহল প্রকাশ করেছেন।
এই পোস্টটি ক্রিকেট এবং রাজনীতি দুই ক্ষেত্রেই সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে এটিকে ক্রিকেট ইস্যুকে সাম্প্রদায়িক আঙ্গিকে তোলা চেষ্টা বলে মনে করছেন।


সরফরাজের ক্রিকেট রেকর্ড এবং বাদ পড়ার কারণ
২০২৪ সালের নভেম্বরে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে হোম সিরিজে শেষবার ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন সরফরাজ। তারপর বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি, ইংল্যান্ড সফর এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকর এর আগে স্পষ্ট জানিয়েছেন, সরফরাজ কোয়াড্রিসেপস চোটের কারণে খেলতে পারেননি। দলের ভারসাম্য ও ফিটনেস বিবেচনায় তাকে স্কোয়াডে ফেরার আগে ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পেতে হবে।
তবে, মুম্বই ব্যাটসম্যানের দৃশ্যমান ফিটনেস এবং অসাধারণ ঘরোয়া রেকর্ড সত্ত্বেও প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৬৫ এর গড় নিয়ে নির্বাচকরা এখন মিডল অর্ডারে রজত পাটিদার, বি সাই সুদর্শন ও ঋতুরাজ গায়কোয়াড়দের পরীক্ষা করছেন।


রাজনৈতিক উত্তাপ: কংগ্রেস বনাম বিজেপি
শামা মহম্মদের মন্তব্যের সঙ্গে এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি ও ওয়ারিস পাঠানের প্রশ্ন যুক্ত হয়েছে। তারা অভিযোগ করেছেন, ধারাবাহিক পারফরম্যান্স থাকা সত্ত্বেও কেন সরফরাজের নাম বাদ পড়ছে।
বিপরীতে, বিজেপি মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা বলেন, “কংগ্রেস ক্রিকেটকে সাম্প্রদায়িকীকরণের চেষ্টা করছে। ভারতীয় ক্রিকেট দলের মধ্যে ধর্ম বা জাতপাতের ভিত্তিতে বিভাজন ছাড়ুন।”
উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মন্ত্রী মহসিন রাজা আরও মন্তব্য করেছেন, “ক্রিকেটে রাজনীতি আনা ঠিক নয়। শামি খেলেন, সিরাজ খেলেন, এটা অন্যায়।”
সমালোচনার মেলবন্ধন এবং ক্রিকেট বিশ্লেষণ
সরফরাজের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং নতুন অভিষেক টেস্ট ইনিংস ৩৭১ রান থাকা সত্ত্বেও নির্বাচকরা এখন দলের ব্যাটিং কম্বিনেশন ও ভারসাম্য পরীক্ষা করছেন। ফলে খেলোয়াড় এবং রাজনৈতিক নেতাদের মন্তব্যের মধ্য দিয়ে এই বিতর্ক আরো তীব্র হচ্ছে।
ক্রিকেট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ধর্ম বা রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে নয়, চোট এবং স্কোয়াডের ভারসাম্যই সরফরাজের বাদ পড়ার মূল কারণ।
সরফরাজ খান বাদের ঘটনা ক্রিকেট ও রাজনীতির সংযোগে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। খেলোয়াড়ের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং নির্বাচন সংক্রান্ত কারণ নিয়ে রাজনৈতিক মন্তব্যে উত্তেজনা বাড়ছে। আগামী স্কোয়াড এবং দলের সমন্বয় পরিস্থিতি এই বিতর্কের চূড়ান্ত রূপ নির্ধারণ করবে।







