নজরবন্দি ব্যুরোঃ গত ২০১১ সালে সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেনের সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল কাঁথি পুরসভার। তৎকালীন পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন্দু অধিকারীকে প্রায় লক্ষাধিক টাকা দিয়েছিলেন সুদীপ্ত সেন। কিন্তু হঠাত করে সেই ফাইল গায়েব হতেই তৎপর হয়েছে কাঁথি থানার পুলিশ। এদিন সুদীপ্ত সেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে প্রেসিডেন্সি জেলে উপস্থিত হন পাঁচ জন পুলিশ আধিকারিক। পুলিশের জেরায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। সূত্রের খবর, গোটা ঘটনায় শুভেন্দু থেকে শিশির জড়িয়ে সবাই।
আরও পড়ুনঃ ফের সোনা ভারতের, কমনওয়েলথ গেমসে ভারোত্তোলনে পদক জেরেমির
৩ ঘন্টার জিজ্ঞাসাবাদ পর্বে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য পুলিশের কাছে এনেছেন সুদীপ্ত সেন। এমনটাই সূত্রে খবর। সূত্রে খবর, কাঁথি এলাকায় নির্মাণকাজের অনুমতি পেতে মোটা টাকা দিয়েছিলেন সুদীপ্ত সেন। সেই টাকা নিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সহ অধিকারী পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। নাম জড়িয়েছে সৌমেন্দু অধিকারীর।

এর আগেই অবশ্য সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুদীপ্ত সেন জানিয়েছিলেন, কন্টাইতে আমাদের একটা হাইরাইজ করার জন্য কাঁথি পুরসভায় ৫০ লক্ষ টাকা জমা করেছিলাম। সমস্ত কাজকর্ম করালেন। লেবার হাটের কাজ যখন শেষ করলাম তারপরেও তিনি আমাদের প্ল্যান পাশ করাননি। অভিযোগ, এর আগেও ৯০ লক্ষও টাকা নিয়েছেন শুভেন্দু। এমনকি শুভেন্দু অধিকারীর ভাই সৌমেন্দু অধিকারী টাকা নিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। এমনকি দিব্যেন্দু অধিকারী এবং শিশির অধিকারীকেও টাকা দিয়েছিলেন সুদীপ্ত সেন। শুধুমাত্র হাইরাইজ নয়, সূত্রের খবর, পেট্রোল পাম্প নির্মাণের জন্য শুভেন্দু মোটা টাকা নিয়েছিল তা পুলিশকে জানিয়েছে সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেন।
এদিন একটানা তিন ঘন্টার ওপর জিজ্ঞাসাবাদের পর কাঁথি থানার আইসি জানান, সুদীপ্ত সেন তাঁদের সঙ্গে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন। একাধিক জনকে টাকা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন সুদীপ্ত সেন। তবে কত টাকা দেওয়া হয়েছিল, সেটা বলেনি পুলিশ। তদন্তকারীদের আশ্বাস, আগামী দু থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে এই নিয়ে রিপোর্ট জমা দিতে পারবেন তাঁরা। পুলিশ আশাবাদী যে শীঘ্রই গায়েব হওয়া ফাইল উদ্ধার করা সম্ভব হবে।
শুভেন্দু থেকে শিশির জড়িয়ে সবাই, বিস্ফোরক তথ্য দিলেন সুদীপ্ত

সম্প্রতি কাঁথি পুরসভার পুরপ্রধান সুবল মান্না থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বৃহস্পতিবার কাঁথি পুনরায় হেফাজতে চেয়ে আপিল করে কাঁথি থানার পুলিশ আধিকারিক। কাঁথি থানায় দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে বর্তমান পুরবোর্ডের কাছে ওই প্রকল্পের নীল নক্সা দেখতে চায়। তখনই দেখা যায়, কোনও ধরনের কোনও ফাইল কিংবা নথি দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। তথ্য লোপাটের অভিযোগ তুলেছে বর্তমান কাঁথি পুরবোর্ড।



