শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারি নিয়ে চলা একের পর এক মামলায় নতুন করে শিরোনামে এল এসএসসি। সুপ্রিম কোর্টে সোমবার কমিশন জানাল, ২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় বেআইনিভাবে চাকরি পাওয়া সমস্ত দাগি অযোগ্য প্রার্থীকে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশ মেনেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
গত শনিবার স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) প্রকাশ করেছিল ১,৮০৬ জন দাগি প্রার্থীর তালিকা। এদের মধ্যে যাঁরা নতুন নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন, তাঁদের অ্যাডমিট কার্ডও বাতিল করা হয়। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল, কোনওভাবেই যেন দাগিরা নতুন নিয়োগে সুযোগ না পান। কমিশন দাবি করেছে, সেই নির্দেশই কড়াভাবে কার্যকর করা হয়েছে।


সোমবার বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার বেঞ্চ কমিশনের আইনজীবীর কাছে জানতে চান, ‘‘সব দাগি অযোগ্য কি বাদ দেওয়া হয়েছে?’’ উত্তরে আইনজীবী জানান, ‘‘হ্যাঁ, বাদ দেওয়া হয়েছে।’’
এদিকে এসএসসি মামলায় একই বিষয় নিয়ে একাধিক পিটিশন জমা পড়ায় বিরক্তি প্রকাশ করেছেন বিচারপতিরা। বেঞ্চের মন্তব্য, “একই বিষয়ে এত মামলা কেন আসছে? প্রতিদিন একই ধরনের শুনানি হচ্ছে। আমরা ইতিমধ্যেই সব দিক খতিয়ে দেখেছি।”
শুধু তাই নয়, স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর স্তরে ন্যূনতম নম্বর সংক্রান্ত কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করতেও অস্বীকার করেছে সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি এসএসসির নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করে করা মামলাও খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।


বিচারপতিরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এসএসসির নীতিগত সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ নয়। তাঁদের পর্যবেক্ষণ, কমিশন ইতিমধ্যেই সমস্ত বিষয় বিবেচনা করেছে এবং বেআইনি প্রাপ্তি পাওয়া প্রার্থীদের বাদ দেওয়া হয়েছে।
এই রায়ের ফলে কার্যত স্পষ্ট হল, নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনও দাগি অযোগ্য প্রার্থী অংশ নিতে পারবেন না। একইসঙ্গে অপ্রয়োজনীয় মামলা করে আদালতের সময় নষ্ট না করার বার্তাও দিলেন শীর্ষ আদালতের বিচারপতিরা।
২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মামলা ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই আদালতে চলছিল টানাপোড়েন। এবার সুপ্রিম কোর্টে এসএসসি জানিয়ে দিল, সব দাগি প্রার্থীকে বাদ দেওয়ার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আদালতও জানিয়ে দিল, এসএসসির নীতিগত সিদ্ধান্তে আর হস্তক্ষেপ করা হবে না।









