নজরবন্দি ব্যুরোঃ স্কুল সার্ভিস কমিশনে নিয়োগের ক্ষেত্রে পাহাড়-প্রমাণ দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে এই দুর্নীতির তদন্ত করছে সিবিআই। নিজাম প্যালেসে ডাক পড়ছে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে রাজ্যের বর্তমান শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীর। দুজনকেই ম্যারাথন জেরা করেছে সিবিআই। দুই মন্ত্রীর বয়ানেই ব্যাপক অসঙ্গতি পেয়েছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।
আরও পড়ুনঃ স্কুল সার্ভিস কমিশনের শিক্ষক নিয়োগে যাবতীয় দুর্নীতির খবর পড়তে এখানে ক্লিক করুন।


পরেশ অধিকারীকে প্রশ্ন করা হয়, SSC-র মেধাতালিকায় কত নম্বরে নাম ছিল তাঁর মেয়ে অঙ্কিতার? অঙ্কিতা কবে স্কুলের চাকরিতে যোগ দেন? মেয়ের চাকরি পাওয়া এবং কাজে যোগদানের মাঝের সময়টায় পরেশ কার কার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেছিলেন? অঙ্কিতার বিষয়ে তাঁদের সঙ্গে কী কথা হয়েছিল? টানা ৩ দিন সর্বমোট সাড়ে ১৬ ঘন্টা ধরে জেরা করা হয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীকে।

ম্যারাথন জেরা করা হয় প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কেও। এসএসসির নিয়োগে শান্তিপ্রসাদ সিন্হার নেতৃত্বাধীন কমিটিকে বেআইনি বলে ঘোষণা করেছিল কলকাতা হাই কোর্ট। সেই সময় শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তিনিই এই কমিটি গঠন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই বিষয়েই জিজ্ঞসাবাদের জন্য পার্থকে সিবিআইয়ের কাছে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সিবিআই জানতে চায়, কার নির্দেশে বেআইনি নিয়োগ করেছিল কমিটি। যদিও টানা ৮ ঘন্টা জেরা শেষেও নিজের অবস্থানে অনড় থেকে পার্থ বলেছেন, তিনি কিছুই জানেন না!



একদিকে মন্ত্রীদের শিয়রে যখন সিবিআই তাণ্ডব করছে তখন অন্যদিকে শিক্ষকতার চাকরি পেয়ে ঘুষ দিয়েছিলেন যে সব চাকরি প্রার্থীরা তারা ধর্ণা দিতে শুরু করেছেন তৃণমূল নেতাদের বাড়ি বাড়ি। কিন্তু কেন ধর্না? সূত্রের খবর, যোগ্যদের পিছনে ফেলে বেআইনিভাবে চাকরি পাওয়ার পথ আপাতত বন্ধ। তাই যারা টাকা দিয়ে রেখেছিলেন চাকরি পাওয়ার প্রত্যাশায়, তাঁরা এখন টাকা ফেরত চাইছেন।
‘টাকা ফেরত দিন’, তৃণমূল নেতাদের দুয়ারে ধর্না ঘুষ দেওয়া হবু শিক্ষকদের।

রাজ্যের সর্বত্র ছড়িয়ে থাকা এই চক্রের সাথে জড়িয়ে যারা তাঁদের উপর চাপ বাড়িয়ে, ঘটনাটি ঘটেছে বালুরঘাট শহরের যোগমায়া এলাকায়। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসছে পাওনাদাররা। এলাকার নেতা বিপ্লব মণ্ডল শিক্ষকতার চাকরি পাইয়ে দেবেন বলে ৪ লক্ষ টাকা করে নিয়েছিলেন চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে। এখন সেই টাকা ফেরত পেতেই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে পাওনাদাররা এসে ধর্ণা দিচ্ছেন তাঁর বাড়ির সামনে। অভিযোগ পুলিশে জানিয়েও, কোন লাভ হয়নি।







