নবম-দশমের ফ্রেশ সিলেকশন পরীক্ষা শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও আশঙ্কা কাটছে না। স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) এই নতুন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন প্রায় তিন লক্ষাধিক প্রার্থী। কিন্তু আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানালেন, দুর্নীতিগ্রস্ত প্রার্থীরা যদি এবারও পরীক্ষায় অংশ নিয়ে থাকেন, তাহলে এই SSC পরীক্ষাও বাতিল হতে পারে।
তিনি বলেন, “আমাদের মতে স্কুল সার্ভিস কমিশনের দেওয়া দুর্নীতিগ্রস্তদের তালিকা অসম্পূর্ণ। যদি সেই তালিকা এড়িয়ে কেউ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে থাকেন, তাহলে এর দায় SSC-কেই নিতে হবে।”


পরীক্ষার্থীদের একাংশও জানিয়েছেন তাঁদের অনিশ্চয়তার কথা। TV9 বাংলার কাছে প্রতিক্রিয়ায় অনেকে বলেন, SSC-র অতীত ইতিহাসের কারণে তাঁদের মধ্যে ভরসার অভাব রয়েছে। কেউ কেউ স্পষ্ট জানিয়েছেন, “পরীক্ষা নির্বিঘ্নে নেওয়া বড় কথা নয়, নিয়োগ প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ হবে সেটাই আসল।”
বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য আরও বলেন, “কারচুপি কোন স্তরে হবে, তা আগে থেকে বলা যায় না। কিন্তু SSC-র অতীত দুর্নীতি, কমিশনের ভূমিকা এবং সরকারের অবস্থান—সব মিলিয়ে আশঙ্কা থেকেই যায়। মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে অযোগ্য প্রার্থীদের পক্ষে সওয়াল করছেন, তাতে সন্দেহ দূর হচ্ছে না।”
এই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ২০১৬ সালের চাকরিহারা আন্দোলনকারী শিক্ষক সুমন বিশ্বাস, চিন্ময় মণ্ডল, মেহবুব মণ্ডলরাও। তাঁদের বক্তব্য, পরীক্ষা দেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না, কিন্তু এই অভিজ্ঞতা তাঁদের কাছে বেদনাদায়ক।


এদিকে SSC জানিয়েছে, পরীক্ষার উপস্থিতি হার ছিল ৯১ শতাংশ। তবে ‘দাগী’ প্রার্থী মিশে ছিলেন কিনা, তা নিয়ে এখনও কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি। তাই প্রশ্ন উঠছে—নতুন পরীক্ষাতেও কি পুরনো ছায়া থেকে যাবে?
রাজনৈতিক মহলের মতে, নবম-দশমের এই SSC পরীক্ষা কেবল প্রযুক্তিগত দিক থেকে নয়, নৈতিক দিক থেকেও বড় পরীক্ষা। দুর্নীতি ও অস্বচ্ছতার ইতিহাস মুছতে না পারলে এই ফ্রেশ সিলেকশন নিয়েও অনিশ্চয়তা কাটবে না।








