এসএসসি মামলায় হাইকোর্টে অযোগ্য তালিকা বহাল, ‘আমরা কিছু করতে পারব না!’ জানিয়ে দিল আদালত

কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে বহাল থাকল এসএসসি-র ১৮০৬ জন অযোগ্য প্রার্থীর তালিকা, মামলাকারীদের অনুরোধ খারিজ করে শীর্ষ আদালতের রায়ের দিকে ইঙ্গিত বিচারপতিদের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

কলকাতা হাইকোর্টে এসএসসি মামলার শুনানিতে ফের বড় মোড়। বৃহস্পতিবার বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী ও ঋতব্রত কুমার মিত্রর ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, তারা কোনওভাবেই অযোগ্য প্রার্থীদের পরীক্ষায় বসার অনুমতি দিতে পারবেন না। এই নির্দেশে বহাল থাকল এসএসসি-র ১৮০৬ জন অযোগ্য প্রার্থীর তালিকা। মামলাকারীদের অনুরোধ সত্ত্বেও আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়—“আমরা কিছু করতে পারছি না, সব কিছুই এখন সুপ্রিম কোর্টের বিবেচনায়।”

প্রসঙ্গত, মামলাকারীরা দাবি করেছিলেন যে তারা এসএসসি পরীক্ষায় বসার জন্য অ্যাডমিট কার্ড পেয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎ প্রকাশিত অযোগ্য তালিকায় তাদের নাম উঠে আসে। এই প্রসঙ্গে মামলাকারীদের আইনজীবী অনিন্দ্য লাহিড়ী যুক্তি দেন, “আমাদের হাতে অযোগ্য তালিকা আগে ছিল না। কমিশন প্রথমে পরীক্ষায় বসার অনুমতি দিল, পরে তালিকায় নাম ঢুকিয়ে দিল।”

Shamim Ahamed Ads

আদালতে কমিশনের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, শুধুমাত্র মূল তিন কারণে অযোগ্য নয়, বরং আরও বেশ কিছু সমস্যা যেমন OMR মিসম্যাচ, র‌্যাঙ্ক জাম্প, সাদা খাতা জমা দেওয়া, প্যানেলের বাইরে বা মেয়াদোত্তীর্ণ প্যানেল থেকে নিয়োগ—এসবকেও ধরা হয়েছে অযোগ্যতার কারণ হিসেবে। কিন্তু আদালত প্রশ্ন তোলে, “যদি এসব ভুল থাকে, তবে তাদের অ্যাডমিট কার্ড দেওয়া হল কেন?”

কল্যাণের যুক্তি ছিল, এসএসসি পরীক্ষায় বসার জন্য প্রায় ৫ লক্ষ আবেদন এসেছিল। সবগুলো আবেদন একসঙ্গে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাই কিছু আবেদন প্রথমে গ্রহণ হলেও পরে ৩-৪ দিনের মধ্যে বাতিল করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, “কমিশন হয়তো ভুল করেছে, কিন্তু সেই ভুল শুধরে নেওয়া হয়েছে। আর সুপ্রিম কোর্ট আমাদের অবস্থানকে মান্যতাও দিয়েছে।”

তবে মামলাকারীদের দিক থেকেও চাপানউতোর চলতে থাকে। তাঁদের বক্তব্য, অ্যাডমিট কার্ড দিয়ে চাকরির আশা জাগিয়েছিল এসএসসি। এখন হঠাৎ করে অযোগ্য প্রমাণ করে সমস্ত ভবিষ্যৎ কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। বিচারপতিরাও স্বীকার করেন, কমিশনের এই ‘ক্যাজুয়াল পদক্ষেপ’ অনেকের ক্ষতি করেছে। কিন্তু একইসঙ্গে তারা জানান, শীর্ষ আদালতের নির্দেশের বাইরে গিয়ে কিছু করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট করে দেয়, “অযোগ্য প্রার্থীদের আবেদন গ্রহণ করার মতো কোনও আইনি সংস্থান নেই। সুপ্রিম কোর্টে যেতেই হবে মামলাকারীদের।” ফলে মামলাকারীদের লড়াই আরও দীর্ঘায়িত হতে চলেছে।

এই মামলার মূল ফোকাস দাঁড়িয়েছে এখন একটাই—সুপ্রিম কোর্ট অযোগ্য তালিকা বহাল রাখবে, নাকি কোনও প্রার্থীর ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দেবে। তার আগে কলকাতা হাইকোর্ট কোনও পদক্ষেপ নিতে রাজি নয়।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত