২০১৬ সালের এসএসসি-তে চতুর্থ শ্রেণির কর্মী নিয়োগে পুরো প্যানেল বাতিল—রায়ে কার্যত তছনছ হাজার হাজার পরিবার। কিন্তু যাঁর করা মামলার ভিত্তিতে এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত, তিনি নিজেই যদি সিবিআইয়ের তালিকাভুক্ত ‘টেন্টেড’ বা চিহ্নিত অযোগ্য হন, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই। সেই প্রশ্নই এবার প্রকাশ্যে তুলে ধরল রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের দাবি, একটি গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন চাকরিহারারা।
Kolkata High Court-এর নির্দেশে ২০১৬ সালের এসএসসি-র গোটা প্যানেল বাতিল হয়েছে লক্ষ্মী টুঙ্গার দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে। অথচ তৃণমূলের অভিযোগ, এই লক্ষ্মী টুঙ্গাই আবার সিবিআইয়ের জমা দেওয়া ‘দাগি’ প্রার্থীদের তালিকায় নাম থাকা একজন। অর্থাৎ যাঁর মামলা আদালত গুরুত্ব দিয়ে দেখেছে, তিনিই নাকি অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত।
বুধবার বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক Kunal Ghosh। একগুচ্ছ নথি সামনে রেখে তিনি বলেন, “যাঁর মামলার উপর ভিত্তি করে এতজনের চাকরি গেল, তিনি নিজেই একজন দাগি প্রার্থী। Central Bureau of Investigation যে তালিকা আদালতে দিয়েছে, সেখানে লক্ষ্মী টুঙ্গার নাম রয়েছে।”
কুণালের আরও অভিযোগ, ওই পিটিশনে দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী লক্ষ্মী টুঙ্গার বাড়ি নন্দীগ্রামে। সেখান থেকেই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “তাহলে কি বিজেপি নন্দীগ্রাম থেকে দাগিদের এনে বামেদের হাতে তুলে দিচ্ছে? এখানে কি বিজেপি ও সিপিএম হাত মিলিয়ে এই মামলা করিয়েছে?” তাঁর মতে, একজন অভিযুক্তের অভিযোগকে হাতিয়ার করেই বিকাশ ভট্টাচার্য-সহ কয়েকজন আইনজীবী গোটা প্যানেল বাতিল করিয়েছেন, যার ফল ভুগছেন হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী।
তৃণমূলের দাবি, গোটা ঘটনার পিছনে ‘রাম-বাম’-এর সুস্পষ্ট আঁতাত রয়েছে। কুণাল ঘোষ এই ইস্যুতে সবিস্তার তদন্তের দাবি জানান এবং আদালতের কাছেও পুরো বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আর্জি রাখেন।
অন্যদিকে, প্রসঙ্গত মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে—এসএসসি-তে চতুর্থ শ্রেণির কর্মী নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ প্রথম তুলেছিলেন এই লক্ষ্মী টুঙ্গাই। তাঁর বক্তব্য ছিল, করোনাকালীন লকডাউনের মধ্যে গোপনে নিয়োগ হয়েছে। মহিষাদল, তমলুক-সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে চাকরির খবর পেয়ে দপ্তরে যোগাযোগ করলেও সাড়া মেলেনি। পরে গ্রুপ ডি নিয়োগ সংক্রান্ত নথি হাতে পেয়ে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন।
তবে এখন সেই অভিযোগকারীর পরিচয় নিয়েই নতুন করে বিতর্ক। প্রশ্ন একটাই—যদি মামলাকারী নিজেই ‘দাগি’ হন, তাহলে সেই মামলার ভিত্তিতে নেওয়া সিদ্ধান্ত কতটা ন্যায়সঙ্গত? এই প্রশ্ন ঘিরেই ফের উত্তপ্ত হচ্ছে এসএসসি নিয়োগ বিতর্ক।



