এক মুহূর্তের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল মাঝআকাশে। মুম্বই থেকে কলকাতাগামী SpiceJet ফ্লাইট SG670-এ উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরেই বিকল হয়ে যায় বিমানের একটি ইঞ্জিন। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনেন পাইলট, এবং শেষ পর্যন্ত নিরাপদে অবতরণ করানো হয় বিমানটি কলকাতার নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাত ১১টা ৩৮ মিনিট নাগাদ বিমানটি কলকাতায় জরুরি অবতরণ (emergency landing) করে। বিমানটিতে সেই সময় ১৭০ জন যাত্রী ও কয়েকজন ক্রু মেম্বার ছিলেন। সকলেই সম্পূর্ণ সুস্থ ও নিরাপদ আছেন বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।


ইঞ্জিন বিকল হওয়ার পর দ্রুত পদক্ষেপ
SpiceJet-এর কলকাতামুখী এই ফ্লাইটটি মুম্বই থেকে উড়েছিল রাতের দিকে। কিছু দূর যাওয়ার পরই বিমানের একটি ইঞ্জিনে প্রযুক্তিগত ত্রুটি (engine failure) ধরা পড়ে। পাইলট সঙ্গে সঙ্গে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (ATC)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং জরুরি পরিস্থিতির কথা জানান।
ATC-এর নির্দেশে বিমানের উচ্চতা কমিয়ে ধীরে ধীরে Kolkata Airport-এর দিকে ঘুরিয়ে আনা হয়। পাইলটের অভিজ্ঞতা এবং নিয়ন্ত্রণ দক্ষতার জোরেই বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়।
নিরাপদ অবতরণের পর যাত্রীদের অভিজ্ঞতা
অবতরণের পর বিমানবন্দরে SpiceJet ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের যৌথ টেকনিক্যাল টিম দ্রুত ইঞ্জিন পরীক্ষা শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বিমানের ডানদিকের ইঞ্জিনে হঠাৎ ত্রুটি দেখা দিয়েছিল, যার ফলে পাইলটকে এক ইঞ্জিনেই ফ্লাইট পরিচালনা করতে হয়।


কিছু যাত্রী জানিয়েছেন, উড্ডয়নের কিছু পরেই বিমানে অস্বাভাবিক শব্দ শোনা যাচ্ছিল। পরে ক্রু মেম্বাররা শান্তভাবে যাত্রীদের আসনে বসে থাকতে অনুরোধ করেন। ভয় পেলেও অধিকাংশ যাত্রী পাইলট ও ক্রুদের পেশাদার আচরণে স্বস্তি পান।
SpiceJet-এর প্রতিক্রিয়া
SpiceJet-এর তরফে জানানো হয়েছে, “ফ্লাইট SG670 মুম্বই থেকে কলকাতা যাত্রাপথে একটি টেকনিক্যাল ইস্যু ধরা পড়ে। পাইলট তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি প্রোটোকল অনুসরণ করে নিরাপদে বিমানটি ল্যান্ড করান। যাত্রীদের কেউই আহত হননি।”
কোম্পানি জানিয়েছে, বিমানটি আপাতত পরীক্ষার জন্য হ্যাঙ্গারে পাঠানো হয়েছে এবং Directorate General of Civil Aviation (DGCA) ঘটনার তদন্তে নেমেছে।
পাইলটের দক্ষতায় রক্ষা পেল ১৭০ জনের প্রাণ
এই ঘটনার পর যাত্রী ও বিমানবন্দর কর্মীরা পাইলটের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। এক ইঞ্জিনে উড়ে নিরাপদে ল্যান্ড করা অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া। অভিজ্ঞ পাইলটের উপস্থিত বুদ্ধির কারণে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আধুনিক বিমানে এমন পরিস্থিতির জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ থাকে। পাইলটরা নিয়মিত এই ধরনের ইঞ্জিন ফেইলিউর সিমুলেশন ট্রেনিং করে থাকেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে SpiceJet-এর নিরাপত্তা রেকর্ড
গত কয়েক বছরে একাধিক SpiceJet ফ্লাইটে প্রযুক্তিগত ত্রুটির খবর সামনে এসেছে। যদিও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পাইলট ও টেকনিক্যাল টিম পরিস্থিতি সামলে নিয়েছেন দক্ষতার সঙ্গে। DGCA এই ধরনের প্রতিটি ঘটনায় তদন্ত চালিয়ে নিরাপত্তা মান উন্নত করার পরামর্শ দিয়েছে।
SpiceJet জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যেই বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ (maintenance) প্রক্রিয়া আরও জোরদার করেছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন বিপত্তি আর না ঘটে।
মাঝআকাশে SpiceJet Kolkata Flight Engine Failure যাত্রীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল, কিন্তু পাইলট ও ক্রুদের তৎপরতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া গিয়েছে। এই ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দিল, জরুরি পরিস্থিতিতে পেশাদার বিমান চালকের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।








