পশ্চিমবঙ্গে চলতে থাকা SIR প্রক্রিয়া নিয়ে সবচেয়ে বেশি আতঙ্ক দেখা দিয়েছে সোনাগাছির যৌনকর্মী মহলে। কারণ স্পষ্ট—অনেকেরই কাছে ২০০২ সালের নথি নেই, অনেকেই পরিবারের কাছে নিজের পেশা গোপন রেখে জীবনযাপন করেন, ফলে তাদের পক্ষে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করা প্রায় অসম্ভব। এই বাস্তব সমস্যাগুলিকে মাথায় রেখেই এবার বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্যের নির্বাচন কমিশন। খুব শিগগিরিই সোনাগাছির যৌনকর্মীদের জন্য বিশেষ ক্যাম্প করা হবে, যেখানে উপস্থিত থাকবেন ইআরও নিজে।
সোমবার ও মঙ্গলবার পরপর চারটি সংগঠন মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের দফতরে গিয়ে জানান, সোনাগাছির বহু যৌনকর্মীই SIR ফর্ম জমা দিতে পারছেন না নথির অভাবে। তাঁদের মতে, দশকের পর দশক ধরে যাঁরা পরিচয় গোপন করে বেঁচে আছেন, তাঁদের কাছে ২০০২ সালের নথি চাইলে তা অবিশ্বাস্য চাপ তৈরি করছে।
যৌনকর্মী সংগঠনগুলির দাবি, নথি না থাকলে তাঁদের ভোটাধিকারে আঘাত লাগবে। আর সেটাই তাঁদের সবচেয়ে বড় ভয়।
সোনাগাছির যৌনকর্মীদের জন্য বিশেষ ক্যাম্প—SIR সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ কমিশনের

কমিশনের নড়াচড়া—সরাসরি মাঠে নামবে ERO
চাপ বাড়তেই নড়েচড়ে বসেছে নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, সোনাগাছি এলাকায় খুব শিগগিরই একটি স্পেশ্যাল ক্যাম্প করা হবে, যেখানে ইআরও স্বয়ং বসে যৌনকর্মীদের সমস্যা শুনবেন।
যাঁদের পরিচয়পত্র নেই, যাঁদের বাবা-মায়ের পরিচয় অজানা—প্রত্যেকের বক্তব্য, পরিস্থিতি ও বাস্তবতা বিচার করে কমিশনই সিদ্ধান্ত নেবে তাঁদের ভোটার কার্ড কীভাবে হবে।
কমিশন সূত্র বলছে, এটি সাধারণ ক্যাম্প নয়—এটি হবে case-by-case direct hearing camp। অর্থাৎ, প্রতিটি ঘটনা আলাদাভাবে দেখা হবে।
৩ সংগঠনের ৩ দফা দাবি
সিইওকে পাঠানো চিঠিতে তিনটি সংগঠন যৌথভাবে ৩টি প্রধান দাবি রেখেছে—
প্রথমত—
যৌনকর্মীদের ক্ষেত্রে বিকল্প নথি যেন ভোটার সংশোধন প্রক্রিয়ায় গ্রহণযোগ্য করা হয়।
দ্বিতীয়ত—
সোনাগাছিতে বিশেষ শিবির তৈরি করে ভোটার তালিকা সংশোধন ও এনুমারেশন ফর্ম পূরণের ব্যবস্থা সহজ করা হোক।
তৃতীয়ত—
যৌনকর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নামে বিদ্যমান ভোটার কার্ড যেন কোনওভাবেই বাতিল না হয়।
এই তিন প্রস্তাব কমিশন যথেষ্ট গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে।
“রাজ্যের প্রকল্পে সুবিধা পাই, তবুও নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন কেন?”
যৌনকর্মীদের আরেকটি প্রশ্ন—
যখন রাষ্ট্রীয় প্রকল্প যেমন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, বিধবা ভাতা, স্বাস্থ্য প্রকল্পে তাঁদের নাম ইতিমধ্যেই রয়েছে, তখন আবার নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে হবে কেন?
তাঁদের মতে, এটা শুধু প্রশাসনিক সমস্যা নয়, সমাজে তাঁদের ন্যায্য সম্মানকেও প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
“২০০২ সালের নথি অসম্ভব”—মহলের দাবি
সোনাগাছিতে বহু মেয়েই ছোটবেলায় পাচার হয়েছিলেন, কোনও পরিবার নেই, নেই কোনও স্থায়ী ঠিকানা। তাঁদের কাছে ২০০২ সালের নথি চাওয়াকে অনেকেই অমানবিক বলে মনে করছেন। অনেকেই আবার নিজের পরিবারে পেশা জানাতে চান না, ফলে বাড়ির নথি জোগাড় করাও অসম্ভব।
এক সংস্থার সদস্য বলেন, “আমাদের মেয়েরা কোনও অবস্থাতেই ২০০২ সালের ডকুমেন্ট দিতে পারবে না। তাই বিশেষ ক্যাম্পই সমস্যার একমাত্র সমাধান।”
বাস্তবেই বদল আনবে এই ক্যাম্প?
SIR আবহে সারা রাজ্যে আতঙ্ক ছড়ালেও সোনাগাছির যৌনকর্মীদের বাস্তব সমস্যা অনেক আলাদা। তাঁদের জন্য এই বিশেষ ক্যাম্প সত্যি কতটা স্বস্তি আনবে, তা সময় বলবে। তবে অন্তত কমিশন তাঁদের সমস্যাকে গুরুত্ব দিচ্ছে—এটাই এখন সবচেয়ে বড় আশার আলো।







