মুর্শিদাবাদে নতুন রাজনৈতিক দল ঘোষণা করার পর ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর-এর বিধানসভায় অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই প্রেক্ষিতে তাঁকে ডেকে ব্যাখ্যা চাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিলেন না বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে স্পিকার জানান, হুমায়ুন কবীরের বিধায়কপদ খারিজ সংক্রান্ত কোনও আবেদন এখনও তাঁর কাছে জমা পড়েনি। তবে তিনি বলেন, “বিষয়টি নিয়ে জুডিশিয়াল নোটিস নেওয়া যেতে পারে। উনি যে নতুন রাজনৈতিক দল তৈরি করছেন, সে বিষয়ে বিধানসভাকে কিছু জানানো হয়নি।”
স্পিকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়ায় হুমায়ুন কবীর বর্তমানে বিধানসভায় একজন নির্দল সদস্য হিসেবে গণ্য হচ্ছেন। কিন্তু নতুন দল ঘোষণার পর তাঁর সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক অবস্থান কী—তা পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। সেই কারণেই প্রয়োজনে তাঁকে তলব করে ব্যাখ্যা চাওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন স্পিকার।
“প্রয়োজন হলে আমি তাঁকে ডেকে পাঠাতেই পারি,”—এই মন্তব্য করে বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করেছেন যে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে All India Trinamool Congress হুমায়ুন কবীরকে ছয় বছরের জন্য দল থেকে বহিষ্কার করে। কলকাতায় তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান দলের সংখ্যালঘু মুখ ফিরহাদ হাকিম। উপস্থিত ছিলেন মুর্শিদাবাদের দুই বিধায়ক আখরুজ্জামান ও নিয়ামত শেখ।
বহিষ্কারের পরও রাজনৈতিক তৎপরতা থামাননি হুমায়ুন কবীর। ৬ ডিসেম্বর বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। এরপর সোমবার ঢাকঢোল পিটিয়ে নিজের নতুন দল জনতা উন্নয়ন পার্টি-র ঘোষণা করেন এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।
এই সব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই বিধানসভায় হুমায়ুন কবীরের বর্তমান অবস্থান স্পষ্ট করা প্রয়োজন—এমনটাই মনে করছে স্পিকারের দফতর। ফলে আগামী দিনে তাঁকে তলব করা হয় কি না, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।



