নিশাকে সরিয়ে বালিগঞ্জে মুসলিম প্রার্থী দিলেন হুমায়ুন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ‘ভুল’বদল

নিশা চট্টোপাধ্যায়কে প্রার্থী ঘোষণা করে ১২ ঘণ্টার মধ্যেই নাম প্রত্যাহার। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য নতুন মুসলিম প্রার্থীর নাম ঘোষণা করলেন জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নিশা চট্টোপাধ্যায়কে সরানোর সিদ্ধান্তে সময় নেননি। প্রার্থী বদলের ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য নতুন মুখ চূড়ান্ত করে ফেললেন হুমায়ুন কবীর। নিজের নতুন দল জনতা উন্নয়ন পার্টি (জেইউপি)-র তরফে এবার সংখ্যালঘু প্রার্থীকে সামনে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

বুধবার ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর জানান, বালিগঞ্জ কেন্দ্র থেকে জেইউপি-র প্রার্থী হবেন আবুল হাসান। পেশায় প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিক আবুল বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি হুমায়ুনের দূর সম্পর্কের মামা এবং বাম আমলে পুলিশে কর্মরত ছিলেন। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে আরও একাধিক কেন্দ্রের প্রার্থীর নাম ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সেই নামগুলি প্রকাশ্যে আনা হবে বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন।

উল্লেখ্য, গত সোমবার মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় নিজের নতুন রাজনৈতিক দলের নাম ঘোষণা করেন হুমায়ুন কবীর। একই সঙ্গে রাজ্যের ১০টি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থীতালিকাও প্রকাশ করেন তিনি। ভরতপুর ও রেজিনগর— এই দুই কেন্দ্রে নিজেই প্রার্থী হবেন বলে জানান হুমায়ুন।
এ ছাড়াও মুর্শিদাবাদে মনীষা পাণ্ডে, রানিনগরে হুমায়ুন কবীর, বারাসতে সিরাজুল হক মণ্ডল, খড়্গপুর গ্রামীণে ইব্রাহিম হাজি, বৈষ্ণবনগরে মুস্তারা বিবি, ভগবানগোলায় আরও এক হুমায়ুন কবীর এবং হরিরামপুরে ওয়েদুল রহমানের নাম ঘোষণা করা হয়।

নিশাকে সরিয়ে বালিগঞ্জে মুসলিম প্রার্থী দিলেন হুমায়ুন
নিশাকে সরিয়ে বালিগঞ্জে মুসলিম প্রার্থী দিলেন হুমায়ুন

তবে বালিগঞ্জ কেন্দ্রের ক্ষেত্রে নাটকীয় মোড় নেয় পরিস্থিতি। নিশা চট্টোপাধ্যায়কে প্রার্থী ঘোষণা করার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই হুমায়ুন জানিয়ে দেন, তাঁকে আর প্রার্থী করা হচ্ছে না। সেই সময় হুমায়ুন মন্তব্য করেন,
“সোশ্যাল মিডিয়ায় ওঁর অঙ্গভঙ্গি ভাল নয়। বিধানসভার মতো পবিত্র জায়গায় এঁরা অযোগ্য। সাত দিনের মধ্যে বালিগঞ্জে কোনও মুসলিম প্রার্থীর নাম জানিয়ে দেব।”

এই মন্তব্যেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন নিশা চট্টোপাধ্যায়। কলকাতাবাসী নিশা জানান, হুমায়ুন কবীর তাঁদের পারিবারিক বন্ধু। নতুন দল গঠনের সময় বিধায়ক নিজেই তাঁকে রাজনীতিতে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার আগে বিষয়টি তিনি জানতেনই না। নাম ঘোষণা হওয়ার পরে প্রস্তুতিও শুরু করেছিলেন।

নিশার অভিযোগ, যে কারণ দেখিয়ে তাঁকে সরানো হয়েছে, তাতে তাঁর সম্মানহানি হয়েছে।
তিনি বলেন, “প্রতিদিন সমাজমাধ্যমে ট্রোল হচ্ছি, অপমান করা হচ্ছে। আমার বা আমার পরিবারের কিছু হলে দায় কে নেবে? আমি হুমায়ুনের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার কথা ভাবছি।”

এদিকে জেইউপি-র আর এক প্রার্থী মুস্তারা বিবিও অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, হুমায়ুন তাঁকে প্রার্থী ঘোষণা করার পরই সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরি চলে গিয়েছে। তিনি সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসকে দায়ী করেন। যদিও শাসকদলের পাল্টা বক্তব্য, এই অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং হুমায়ুন বা তাঁর দলকে তারা গুরুত্বই দিচ্ছে না।

সব মিলিয়ে, নতুন দল গঠনের কয়েক দিনের মধ্যেই একের পর এক বিতর্কে জড়াল জনতা উন্নয়ন পার্টি। বালিগঞ্জে সংখ্যালঘু মুখে ভরসা করে হুমায়ুন কবীর কতটা রাজনৈতিক জমি শক্ত করতে পারেন, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন