মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে স্বামী রাজা রঘুবংশীকে খুন করার ষড়যন্ত্র স্বীকার করলেন সোনম রঘুবংশী। পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রেমিক রাজ কুশওয়াহ এবং তিন ভাড়াটে খুনির সঙ্গে যৌথভাবে খুনের ছক কষেছিলেন সোনম, যা তিনি নিজেই কবুল করেছেন পুলিশের কাছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, প্রথমে খুনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও, ৪২টি সিসিটিভি ফুটেজ, রক্তমাখা জ্যাকেট, রেনকোট এবং প্রেমিকের সামনে বসিয়ে জেরা করার পর ভেঙে পড়েন ২৪ বছর বয়সী সোনম। জেরায় তিনি স্বীকার করেন— তিনি নিজেই এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পক।


কীভাবে ফাঁস হল খুনের ষড়যন্ত্র?
ঘটনার সূত্রপাত ২০ মে, যখন নবদম্পতি রাজা ও সোনম রঘুবংশী মধুচন্দ্রিমায় মেঘালয় সফরে যান। ২৩ মে চেরাপুঞ্জিতে নিখোঁজ হন তাঁরা। পরের দিন জলপ্রপাতের নিচে পাওয়া যায় রাজা রঘুবংশীর পচাগলা দেহ, মাথায় ছিল গভীর আঘাত।
তদন্তে নেমে পুলিশ রাজ কুশওয়াহ, আকাশ রাজপুত এবং বিশাল সিং চৌহান নামে তিন যুবকের খোঁজ পায়, যাঁরা ২১ মে গুয়াহাটিতে পৌঁছান এবং ২৩ মে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন। সোনমকে হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে তাঁদের সঙ্গে একাধিকবার দেখা যেতে দেখা যায়।


পুলিশ কেন সন্দেহ করেছিল সোনমকে?
সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়মিত পোস্ট করা দম্পতির মেঘালয় সফরের কোনও ছবি না থাকায় পুলিশের সন্দেহ জাগে। এর মধ্যেই খুনের পর রাজার প্রোফাইলে পোস্ট হয়— “সাত জন্মের সঙ্গী”, যা আরও রহস্য ঘনীভূত করে।
হোমস্টের সিসিটিভি ফুটেজ, ফোন ট্র্যাকিং এবং অন্যান্য প্রযুক্তির মাধ্যমে পুলিশ ক্রমে ঘটনাপ্রবাহের ক্লু খুঁজে পায়। শেষপর্যন্ত ৩ জুন সোনমের প্রত্যক্ষ জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে। এরপর ১০ জুন গাজিপুর থেকে সোনম আত্মসমর্পণ করেন এবং জিজ্ঞাসাবাদে অসঙ্গতিপূর্ণ বক্তব্যের জন্য গ্রেপ্তার হন।
মেঘালয়ে মধুচন্দ্রিমায় স্বামীকে খুনের ছক কষেছিলেন স্ত্রী সোনম রঘুবংশী। পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এলো প্রেমিক ও ভাড়াটে খুনিদের নিয়ে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য।








