ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গে চলছে বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR—ভোটার তালিকা হালনাগাদের গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের সামাজিক শান্তি, সম্প্রীতি ও সংহতি রক্ষায় Trinamool Congress বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তৃণমূলের মূল লক্ষ্য—এসআইআর নিয়ে অশান্তি বা উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হলে তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা। তাই ৬ ডিসেম্বরের সংহতি সমাবেশ এ বছর আরও বড় আকারে করছে শাসকদল।
তৃণমূল সূত্রে জানা যায়, ওইদিন ধর্মতলার মেয়ো রোডে অনুষ্ঠিত সংহতি সমাবেশে উপস্থিত থাকতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ছাত্র, যুব ও সংখ্যালঘু সংগঠনকে পুরো আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।


মঙ্গলবার এক ভিডিও বার্তায় মুখপাত্র জয়প্রকাশ মজুমদার জানান, প্রতি বছর ৬ ডিসেম্বর সংহতি দিবস পালন করা হয় সংবিধানের নির্দেশিকা ও সাংবিধানিক মূল্যবোধ বজায় রাখার উদ্দেশ্যে। তিনি বলেন, “বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিনটিকে আমরা জাতীয় ঐক্য ও সম্প্রীতির দিবস হিসেবে পালন করি। এ বছরও সেই অনুষ্ঠান হবে, এবং আমাদের ছাত্র-যুব-সংখ্যালঘু সংগঠন যৌথভাবে আয়োজন করবে।”
তৃণমূলের ভেতরেই খবর, এ বছর সংহতি দিবসের গুরুত্ব অনেক বেশি। কারণ বর্তমানে রাজ্যে SIR প্রক্রিয়া চলছে, যার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ পাবে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে। এই সময় বিজেপি দাবি তুলেছে—বাংলায় অনুপ্রবেশকারী, ভুয়ো ভোটার এবং আধার কার্ডের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের নাম বাদ দিতে হবে। তাঁদের অভিযোগ, বিশেষ করে বাংলাদেশি মুসলিমদের নাগরিকত্ব বাতিল হতে পারে।
এমন বক্তব্যের ফলে রাজ্যে যেন কোনও উত্তেজনা বা সাম্প্রদায়িক উস্কানি তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করতেই তৃণমূল সংহতি সমাবেশকে সামনে এনে একতা ও শান্তির বার্তা জোরালো করতে চাইছে।


তৃণমূলের কাছে SIR এবং সংহতি দিবস—দু’টিই এখন রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্য জুড়ে ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর বাড়ছে। তাই শাসকদল চাইছে প্রশাসনের পাশাপাশি সংগঠনও মাঠে নেমে সামাজিক সম্প্রীতির পরিবেশ রক্ষা করুক।
৬ ডিসেম্বরের সমাবেশে মমতা ও অভিষেক কী বার্তা দেবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র আগ্রহ। দলের অভ্যন্তরেই মনে করা হচ্ছে, সংহতি সমাবেশ মঞ্চ থেকেই তাঁরা SIR, নাগরিকত্ব বিতর্ক, সামাজিক সংহতি এবং নির্বাচনের আগে শান্তি বজায় রাখার বিষয়গুলি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করতে পারেন।
এ বছরের সংহতি দিবস তাই শুধুমাত্র প্রতীকী নয়, বরং রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে উঠতে চলেছে।








