SIR প্রতিবাদে ঠাকুরবাড়িতে আমরণ অনশন, ভারচুয়ালি সূচনা করলেন মমতাবালা ঠাকুর

ঠাকুরনগরে SIR বিরোধী আন্দোলনে মতুয়াদের আমরণ অনশন শুরু। ভারচুয়ালি সূচনা করলেন সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর, তৃণমূল-বিজেপি পাল্টাপাল্টি বার্তা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ঠাকুরনগর আবারও উত্তপ্ত। SIR প্রতিবাদ এবং নাগরিকত্ব ইস্যুকে কেন্দ্র করে মতুয়া মহাসংঘের একাংশ পথে নামলেন আমরণ অনশনে। বুধবার দুপুর বারোটা থেকে ঠাকুরবাড়ির প্রাঙ্গণে বসে পড়েছেন আন্দোলনকারীরা। দাবি একটাই, পূর্ববঙ্গ থেকে এসে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ভারতের মাটিতে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী সব মতুয়াকে নিঃশর্ত ভোটাধিকার এবং নাগরিকত্ব দিতে হবে। তাঁদের অভিযোগ, SIR হলে লাখ লাখ মতুয়ার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে

এই অনশনের ডাক দিয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর। যদিও এদিন তিনি উপস্থিত ছিলেন না। বিশেষ কাজে বাইরে থাকার কারণে ভারচুয়ালি আন্দোলনের সূচনা করেন তিনি। তাঁর দাবি, SIR চালু হলে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় দুই কোটি মানুষের ভোটাধিকার সংকটে পড়তে পারে, যার ৯৫ শতাংশই মতুয়া সমাজ। তাই নিঃশর্ত নাগরিকত্ব ছাড়া বিকল্প নেই।

বিক্ষুব্ধ মতুয়ারা বলেন, তাঁদের পূর্বপুরুষেরা দেশভাগের বলি। তাই তাঁদের দেশছাড়া ভাবলে তা হবে ইতিহাস ও মানবাধিকারের অপমান। তাঁদের বক্তব্য, CAA, NRC, SIR নিয়ে কেন্দ্রের নীতি স্পষ্ট নয়। এদিকে ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে মতুয়ারা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। অনশনকারীদের বক্তব্য, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।

ঠাকুরবাড়ি সবসময়ই মতুয়া রাজনীতির কেন্দ্র। এখান থেকেই আন্দোলনের বার্তা গেলে তা গোটা রাজ্যে প্রভাব ফেলবে বলেই মত অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের। সিএএ ও SIR নিয়ে তৃণমূল ও বিজেপির টানাপড়েন নতুন নয়। এর আগে মমতাবালা ঠাকুর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, বিজেপি মতুয়াদের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঠকিয়েছে। তাঁদের ভয় দেখিয়ে CAA ফর্ম পূরণ করানো হচ্ছে। তাই শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনই এখন একমাত্র পথ।

অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে আশ্বাস দিয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ও মতুয়া নেতা শান্তনু ঠাকুর। তিনি বলেন, মতুয়ারা CAA তে আবেদন করুন। যাঁদের ২০০২ সালের তালিকায় নাম নেই, তাঁদের নাম যেন না কাটা হয়, সেই আবেদন নির্বাচন কমিশনের কাছে করা হবে। তাঁর মতে, তৃণমূল আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। বিজেপি মতুয়ার স্বার্থেই কাজ করছে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মতুয়া ভোটব্যাংক নিয়ে দুই দলের বিরোধ এবার আরও বাড়বে। কারণ, ২০২৬ বিধানসভা ভোটের আগে ভোটার তালিকার বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। এই SIR প্রতিবাদে মতুয়ারা আবারও রাস্তায় নামায় রাজ্য রাজনীতিতে ভূমিকম্প তৈরি হল বলেই মনে করা হচ্ছে।

ঠাকুরবাড়ির এই অনশন রাজ্যের প্রশাসন ও কেন্দ্রের উপর চাপ বাড়াবে। কারণ মতুয়ারা শুধু ভোটার নন, এ রাজ্যের সামাজিক ইতিহাসের শক্তিশালী অধ্যায়। তাঁদের দাবির সঙ্গে যুক্ত আবেগ, ইতিহাস, পরিচয়বোধ এবং নাগরিকত্বের বাস্তব লড়াই। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, SIR প্রতিবাদ আগামীদিনে আরও তীব্র হতে পারে, যদি কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট বার্তা না দেয়।

এ মুহূর্তে ঠাকুরনগরের চোখ আন্দোলন মঞ্চে। প্রশ্ন একটাই—নিঃশর্ত নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার দাবিতে মতুয়াদের এই লড়াই কি নতুন মোড় নেবে? নাকি রাজনৈতিক টানাপোড়েনের শিকার হবেন হাজার হাজার সাধারণ মানুষ?

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত