পুজোর পর থেকেই রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা। সেই সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই সুন্দরবন সাংগঠনিক জেলা নেতৃত্বকে সতর্ক নজরদারির নির্দেশ দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে নিজের দপ্তরে সুন্দরবন জেলার নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে দলকে এখন থেকেই প্রস্তুত থাকতে হবে।
অভিষেকের কথায়, “একজন বৈধ ভোটারও যেন বাদ না পড়ে” — এ বিষয়টি সুনিশ্চিত করতে হবে। ভোটার তালিকা হালনাগাদ, হারা বুথ পুনরুদ্ধার এবং জেলা পর্যায়ে সমন্বয় বৃদ্ধির ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিও। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়া যদি পুজোর পর শুরু হয়, তাহলে প্রশাসনিক এবং সংগঠনিক স্তরে প্রস্তুত থাকা জরুরি। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া বা বিভ্রান্তি তৈরি হলে তা সরাসরি জনসমর্থনে প্রভাব ফেলতে পারে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠকে জানান, “হারা বুথ” বা দুর্বল বুথগুলিকে এখন থেকেই নজরে রাখতে হবে। কোথায় কী কারণে দল পিছিয়ে পড়েছে তার বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করতে হবে। গোসাবা-সহ বেশ কয়েকটি জায়গায় এই বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল। সে কারণেই সেখানে একটি কোর কমিটি গঠন করা হবে বলে ঘোষণা করেছেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এসআইআর প্রক্রিয়া তৃণমূলের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। কারণ, ভোটার তালিকার ত্রুটি এবং এসআইআর প্রক্রিয়ার অজুহাতে বিরোধীরা রাজনৈতিক সুবিধা নিতে চাইতে পারে। তাই এখন থেকেই প্রতিটি স্তরে দলকে একজোট হয়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন অভিষেক।
অভিষেক আরও জানান, “প্রতিটি হারা বুথের তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ প্রয়োজন।” শুধু সংখ্যায় জেতাই নয়, ভোটারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং মাইক্রো ম্যানেজমেন্ট বাড়াতে হবে। সুন্দরবন সাংগঠনিক জেলা নেতৃত্বকে তিনি জানিয়েছেন, এলাকায় সংগঠনের ভাবমূর্তি বজায় রাখতে এবং কর্মীদের সক্রিয় করতে বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন।
রাজ্যজুড়ে পঞ্চায়েত ভোটের পর থেকেই এসআইআর প্রক্রিয়ার গুজব রাজনৈতিক মহলে ছড়িয়েছে। বিরোধীরা একে সরকারের বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া বার্তা, তৃণমূল কোনও পরিস্থিতিতেই অপ্রস্তুত থাকবে না।
দলের অভ্যন্তরীণ সূত্র অনুযায়ী, অভিষেকের বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভোটার তালিকা, এসআইআর প্রক্রিয়া এবং হারা বুথ সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান করা। এর মাধ্যমে জেলার প্রতিটি স্তরে ঐক্যবদ্ধ নেতৃত্ব গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য।
এসআইআর প্রক্রিয়ার মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে এবার রাজ্যের সুন্দরবন সাংগঠনিক জেলায় তৃণমূলের অবস্থান স্পষ্ট — “সতর্ক নজর, সময়মতো পদক্ষেপ, আর হারা বুথ পুনরুদ্ধার।”



