সারা বাংলায় SIR ফর্ম ফিলাপের শেষ তারিখ নিয়ে ব্যাপক বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। কোথাও বলা হচ্ছে ২৫ নভেম্বরই নাকি ফর্ম জমা দেওয়ার শেষ সুযোগ, আবার কোথাও ২৮ নভেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে—এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিএলওদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। অনেক জায়গায় হুড়োহুড়ি, তাড়াহুড়ো, এমনকি অসুস্থতার ঘটনাও সামনে এসেছে। এর মাঝেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক (CEO) স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন—এসব খবর ভুল। ফর্ম জমা নেওয়ার চূড়ান্ত শেষ তারিখ ৪ ডিসেম্বর এবং তা একদিনের জন্যও পরিবর্তন হয়নি।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিইও দফতর ফের বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায়, SIR ফর্ম ফিলাপের শেষ তারিখ ৪ ডিসেম্বরই থাকবে। কোনও বিএলও বা স্থানীয় স্তরের কেউ যদি ২৫ বা ২৮ নভেম্বরের কথা বলে থাকেন, সেটি অফিসিয়াল নির্দেশ নয়। ফলে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময়সীমা নিয়ে কোনওরকম বিভ্রান্তির জায়গা নেই।
SIR ফর্ম ফিলাপের শেষ তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তি—৪ ডিসেম্বরই চূড়ান্ত, জানাল কমিশন

সিইও-র মুখে পরিষ্কার ব্যাখ্যা
মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল বলেন, “Election Commission of India ৪ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছে। এর মধ্যেই সমস্ত SIR কাজ সম্পূর্ণ করতে হবে। সময়সীমা মোটেও পরিবর্তন হয়নি।”
তাঁকে প্রশ্ন করা হলে কেন মাঠে শোনা যাচ্ছে ২৫ বা ২৮ নভেম্বরের শেষ তারিখের কথা, সিইও ব্যাখ্যা দেন—এটি কোনও সরকারি নির্দেশ নয়, বরং ছোট বুথগুলিতে স্থানীয় রিটার্নিং অফিসারদের তরফে একটি অনুরোধ। যেখানে ভোটারের সংখ্যা ৫০০–৭০০-এর মতো, সেখানকার জন্য এই অনুরোধ করা হয়েছে যাতে আগেভাগে ফর্ম সংগ্রহ করা যায়। বড় বুথে বা বেশি ভোটার থাকা এলাকায় এমন অনুরোধ নেই।
সিইও জানান, “ফর্ম সংগ্রহ হওয়ার পর ডিজিটাইজেশন করতে সময় লাগে। সব ফর্ম সম্পূর্ণ স্ক্যান ও আপলোড করার পরই আমরা খসড়া তালিকা প্রস্তুত করতে পারব। তাই মানুষ যত দ্রুত ফর্ম জমা দেবেন, কর্মীরা ততটাই সময় পাবেন ডিজিটাইজেশনের জন্য।”
রাজনৈতিক দলগুলিও ভুল তথ্য পেয়েছিল
রাজ্য সিইও অফিস জানিয়েছে, কিছু রাজনৈতিক দলও জানতে চেয়েছিল—আসলে কি SIR ফর্ম ফিলাপের শেষ তারিখ ২৫ বা ২৮ নভেম্বর করা হয়েছে? সেখানেও পরিষ্কার জানানো হয়—তারিখ এখনও ৪ ডিসেম্বরই আছে, কোনও পরিবর্তন হয়নি।
অন্যদিকে, সিইও দফতরেরই একটি সূত্র জানাচ্ছে, এলাকায় যেখানে ফর্ম কম জমা পড়েছে বা যেসব বুথ খুব ছোট, সেখানকার ইআরও-রা আগেভাগে জমা দেওয়ার অনুরোধ করেছে। কিন্তু তা কোনওভাবেই বাধ্যতামূলক নির্দেশ নয়, আর রাজ্যস্তরের কোনও পরিবর্তনও নয়।

বিএলওদের ওপরে চাপ নিয়ে প্রশ্ন
ইতিমধ্যেই বাংলায় তিন জন বিএলওর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। অনেকেই চরম ক্লান্তি এবং চাপের অভিযোগ করছেন। বেশ কয়েকজন হাসপাতালে ভর্তি। পরিবার, স্থানীয় মানুষ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অভিযোগ—SIR কাজের অসহনীয় চাপ সহ্য করতে পারছেন না মাঠপর্যায়ের কর্মীরা।
যদিও কমিশনের তরফে দাবি—“কাউকে কোনও অযৌক্তিক চাপ দেওয়া হয়নি।”
তবে ময়দানের ছবি বলছে অন্য কথা—দিনভর বাড়ি-বাড়ি গিয়ে ফর্ম সংগ্রহ, রাতে ডিজিটাইজেশন—সব মিলিয়ে চরম ক্লান্তির মুখে পড়ছেন অনেকেই।
বিভ্রান্তির প্রকৃত কারণ কোথায়?
বাস্তবে, ফর্ম সংগ্রহের কাজ শেষ করতে হবে দ্রুত, কারণ ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই তৈরি হবে খসড়া ভোটার তালিকা।
• ফর্ম বিলি → সংগ্রহ → স্ক্যান → আপলোড → খসড়া তালিকা প্রস্তুত
এই পুরো প্রক্রিয়াই সময়সাপেক্ষ। তাই কমিশন চাইছে—সংগ্রহের অংশটা যত দ্রুত শেষ হয়, পরবর্তী কাজ তত সহজ হবে।
কিন্তু মাঠপর্যায়ে এই ‘অনুরোধ’-কে অনেক জায়গায় ‘বাধ্যতামূলক নির্দেশ’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সেখান থেকেই সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক বিভ্রান্তি।
সাধারণ মানুষের জন্য কমিশনের বার্তা
সিইও মনোজ আগরওয়াল বলেন, “ভোটাররা যেন দেরি না করে দ্রুত ফর্ম পূরণ করে জমা দেন। এতে কাজ সহজ হবে।” অর্থাৎ, ভোটারদের সুবিধা এবং তথ্যের সঠিকতা বজায় রাখতে কমিশন সময়সীমা আগের মতোই রেখেছে। ৪ ডিসেম্বরই চূড়ান্ত শেষ তারিখ, এবং সেটাই মাথায় রেখে কাজ এগোচ্ছে।







