বিহারে ভোট ঘোষণার দিন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছিলেন, রাজ্যের মোট ভোটার সংখ্যা ৭ কোটি ৪২ লক্ষ। কিন্তু পরে প্রকাশিত তালিকায় দেখা যায় ভোটারের সংখ্যা হঠাৎই বাড়ল প্রায় ৩ লক্ষ। নতুন হিসেব দাঁড়ায় ৭ কোটি ৪৫ লক্ষ। এই অঙ্কের পার্থক্য থেকেই শুরু হয় SIR Final List Controversy। ভোটের ফলাফলের পর কংগ্রেস তীব্র প্রশ্ন তোলে—চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরেও কীভাবে এত ভোটার যোগ হল?
সেই প্রশ্নের জবাব এবার দিল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের স্পষ্ট বক্তব্য—SIR Final List Controversy-এর পিছনে কোনও রহস্য নেই, বরং এটি নির্বাচনী নিয়মের অংশ। ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে কমিশন জানায়, ৬ অক্টোবর যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছিল, তা ৩০ সেপ্টেম্বরের SIR বা Special Intensive Revision-এর চূড়ান্ত তালিকার ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত। সেই কারণেই তখন ভোটারের সংখ্যা ৭.৪২ কোটি বলা হয়েছিল।


কংগ্রেস তাদের সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করে দাবি করে, চূড়ান্ত তালিকার পর ৩ লক্ষ ভোটারের বৃদ্ধি সন্দেহজনক। ভিডিয়োটিতে দেখা যায়, বিহারের ভোট ঘোষণার দিন জ্ঞানেশ কুমার নিজেই ৭.৪২ কোটি ভোটারের কথা বলছেন। পরে সেই সংখ্যা বেড়ে ৭.৪৫ কোটিতে পৌঁছনোর বিষয়টি তারা তুলে ধরে।
SIR Final List Controversy: চূড়ান্ত তালিকার পরেও ৩ লক্ষ ভোটার বাড়ল কীভাবে? কমিশনের জবাব

এর পর কমিশনের এক কর্তা সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে জানান, SIR Final List Controversy আসলে ভুল বোঝাবুঝি। এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরও আইন অনুযায়ী ভোটারদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকে। নির্বাচন ঘোষণার পর প্রতিটি দফার মনোনয়ন দাখিলের শেষ তারিখের ১০ দিন আগে পর্যন্ত যোগ্য নতুন ভোটার নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করতে পারেন।
বিহারের ক্ষেত্রেও এই নিয়মই মানা হয়েছে। প্রথম দফার ক্ষেত্রে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল ১৭ অক্টোবর এবং দ্বিতীয় দফায় ২০ অক্টোবর। সেই সময়সীমার মধ্যে যাঁরা ভোটার তালিকায় নাম তুলতে আবেদন করেছিলেন, তাঁদের তথ্য যাচাই করে ভোটার তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। ফলে সংখ্যায় বৃদ্ধি ঘটেছে।


কমিশন জানায়, এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং দেশের সমস্ত রাজ্যে একইভাবে অনুসরণ করা হয়। ফলে SIR Final List Controversy নিয়ে বিরোধীদের সন্দেহ ভুল ব্যাখ্যার ফল।
আসলে ভোটার তালিকা সংশোধনের SIR প্রক্রিয়া শুধুমাত্র একটি ধাপ। এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরও উপযুক্ত সময় পর্যন্ত নতুন ভোটারদের তালিকায় নাম তোলার অনুমতি পাওয়া আইনগত অধিকার। নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর অনেকেই প্রয়োজনীয় নথি জমা করেন। যাচাই-বাছাইয়ের পর তাঁদের নামই যোগ হয় আপডেটেড তালিকায়।
এই নিয়মের কারণেই তালিকার অঙ্ক পরিবর্তিত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশজুড়ে বিভিন্ন নির্বাচনে প্রকাশিত ভোটার সংখ্যায় সামান্য ওঠানামা খুবই স্বাভাবিক। মূল লক্ষ্য থাকে—যাতে কোনও যোগ্য নাগরিক ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হন। তাই কমিশনের দৃষ্টিতে SIR Final List Controversy আসলে নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কে অসম্পূর্ণ তথ্যের ফলাফল।
নির্বাচন কমিশনের এই ব্যাখ্যার পর বিতর্ক কতটা থামবে তা সময়ই বলবে। তবে ভোটার সংখ্যার এই তিন লক্ষের পার্থক্যকে ঘিরে যে রাজনৈতিক তরঙ্গ উঠেছিল, কমিশনের মতে তার কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই। তাঁদের দাবি, নিয়ম অনুযায়ী যতজন যোগ্য ভোটার আবেদন করেছেন, তাঁদের নামই যুক্ত করা হয়েছে।








