খসড়া তালিকার পর ভয়াবহ অবস্থা হবে বাংলায়, SIR নিয়ে চরম আশঙ্কা মমতার

SIR খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে আশঙ্কা প্রকাশ মুখ্যমন্ত্রীর। মতুয়াভূমে আশ্বস্ত করলেন—সংকটে পাশে থাকবে রাজ্য সরকার, নথি সংগ্রহে সাহায্য পাবে মানুষ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ শেষ হচ্ছে ৪ ডিসেম্বর। তার মাত্র পাঁচ দিন পর, SIR খসড়া তালিকা প্রকাশিত হবে ৯ ডিসেম্বর। আর সেই খসড়া তালিকা প্রকাশের পর পশ্চিমবঙ্গে “ভয়াবহ অবস্থা” তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বনগাঁর মতুয়া জনসভা থেকে তিনি কঠোর ভাষায় আক্রমণ শানালেন নির্বাচন কমিশনকে এবং সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করলেন, যে কোনও সংকটে পাশে দাঁড়াবে তাঁর সরকার।

মমতার দাবি, বুথ লেভেল এজেন্টদের হাতে পর্যাপ্ত অবকাঠামো নেই, নেই স্থায়ী ইন্টারনেট—ফলে ভোটারদের তথ্য আপলোডে বিপর্যয় নেমে এসেছে। তাঁর কথায়, “ইন্টারনেট নেই। বিএলওরা আপলোড করতে পারছেন না। রামের জায়গায় শ্যাম, শ্যামের জায়গায় যদু চলে যাচ্ছে। এআই দিয়ে ভুলভাল হচ্ছে। ফলে আসল জায়গায় নকল নাম ঢুকে পড়বে।” এই বক্তব্যেই স্পষ্ট, SIR খসড়া তালিকা নিয়ে তাঁর তীব্র উদ্বেগ।

সরকার ইতিমধ্যেই ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ প্রকল্পের শিবিরে সাধারণ মানুষের কথা শুনছে এবং প্রতিটি বুথের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১০ লক্ষ টাকা। মমতার ঘোষণা—SIR খসড়া তালিকা প্রকাশের পরেও একই রকম শিবির হবে, যেখানে মানুষের নথি নিয়ে সাহায্য করবে সরকারই। মতুয়ারাষ্ট্র বনগাঁর মানুষকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, “আমি কথার খেলাপ করি না। ভয় পাবেন না। তৃণমূল থাকতে কারও গায়ে হাত পড়তে দেব না।”

খসড়া তালিকার পর ভয়াবহ অবস্থা হবে বাংলায়, SIR নিয়ে চরম আশঙ্কা মমতার

অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গত সোমবার ২৫ হাজার নেতার সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে জানিয়েছিলেন—SIR-এর দ্বিতীয় পর্বই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে কোনও শৈথিল্য বরদাস্ত করা হবে না। মঙ্গলবার মমতাও পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, দল যেমন মাঠে থাকবে, পাশাপাশি সরকারও সমান্তরালে কাজ করবে। জাতিগত শংসাপত্র, বাস্তু নথি, বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজ—সবকিছুতেই সাহায্য করবে প্রশাসন।

খসড়া তালিকার পর ভয়াবহ অবস্থা হবে বাংলায়, SIR নিয়ে চরম আশঙ্কা মমতার
খসড়া তালিকার পর ভয়াবহ অবস্থা হবে বাংলায়, SIR নিয়ে চরম আশঙ্কা মমতার

বনগাঁ থেকে চাঁদপাড়া পাটপট্টি মোড় হয়ে ঢাকুরিয়া হাইস্কুল মোড় পর্যন্ত চার কিলোমিটার পদযাত্রা করলে মমতা স্পষ্ট বার্তা দেন—SIR নিয়ে লড়াইতে তৃণমূল পিছিয়ে থাকবে না।

বাংলা কিন্তু বিহার নয়

মমতা মঙ্গলবারের বক্তব্যে টেনে আনেন বিহারের সাম্প্রতিক নির্বাচন। সেখানে SIR শেষে ৬০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়েছিল। তবুও ফলাফলে নীতীশ কুমারের সরকার ক্ষমতায় ফিরেছে। সেই প্রেক্ষিতেই মমতা বলেন, “বিহারে ওরা (মহাগঠবন্ধন) ধরতে পারেনি। আমরা কিন্তু সব ধরেছি। বাংলা কিন্তু বিহার নয়। বিজেপি বাংলা দখল করতে হ্যাংলার মতো করছে।”

তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট—তালিকা সংশোধন ঘিরে তিনি বড় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন। আর সেই কারণেই SIR খসড়া তালিকা প্রকাশের আগে থেকেই সতর্ক করেছে তৃণমূল।

খসড়া তালিকার পর ভয়াবহ অবস্থা হবে বাংলায়, SIR নিয়ে চরম আশঙ্কা মমতার
খসড়া তালিকার পর ভয়াবহ অবস্থা হবে বাংলায়, SIR নিয়ে চরম আশঙ্কা মমতার

“আমাকে আঘাত করলে দেশটা হিলিয়ে দেব”

মমতার বক্তব্য আরও তীব্র হয়ে ওঠে যখন তিনি ইঙ্গিত করে বলেন, তাঁকে আক্রমণ করা হলে তিনি “দেশটাকে হিলিয়ে দেবেন।” তিনি জানান, ভোটের পরে সারা দেশ চষে বেড়াবেন। তাঁর বক্তব্যের নিশানায় নির্বাচন কমিশনের শীর্ষকর্তা জ্ঞানেশ কুমার এবং রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালও। নাম না করে তিনি দু’জনকে বলেন—‘ইয়েস স্যার’ আর ‘ছোট স্যার’।

তিনি প্রশ্ন তোলেন—কেন এত কম সময়ে অপরিকল্পিত SIR? কেন ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ভবন ভোটকেন্দ্র করতে চাইছে কমিশন? তাঁর মতে, এই সব সিদ্ধান্তের আড়ালে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য।

নিশানায় শান্তনু ঠাকুর

মতুয়ারাষ্ট্র বনগাঁয় দাঁড়িয়ে মমতা আক্রমণের নিশানায় আনেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরকে। অভিযোগ—অর্থের বিনিময়ে মতুয়া মহাসঙ্ঘের কার্ড বিলির সঙ্গে তিনি যুক্ত। মমতার কথায়, “আপনাদের থেকে টাকা নিয়ে ফর্ম বিলি করে কেউ কেউ বিদেশে! কেন গেছে? কারণ নিজেকে বাঁচাতে। রেকর্ড সব আছে। অন্যায় করলে গ্রেফতারের দাবি তুলব আমরাও।”

দুর্গাঙ্গন শিগগিরই

দিঘায় জগন্নাথ ধাম তৈরির পর এবার কলকাতায় ‘দুর্গাঙ্গন’ তৈরির প্রস্তুতি সম্পন্ন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। নিউ টাউনের ইকোপার্কের বিপরীতে এর জমি হিডকো ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করেছে। ডিসেম্বর-জানুয়ারিতেই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হওয়ার সম্ভাবনা। পাশাপাশি মমতা ঘোষণা করেছেন—শিলিগুড়িতে দেশের সবচেয়ে বড় মহাকাল মন্দির নির্মাণ হবে।

সব মিলিয়ে স্পষ্ট—SIR খসড়া তালিকা প্রকাশের আগে থেকেই তৃণমূল-কমিশন সংঘাত তুঙ্গে। আর এই সংঘাতই আগামী নির্বাচনের রাজনীতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে চলেছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত