মূল্যবান ধাতুর বাজারে ফের বড়সড় চমক। বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে সাধারণ ক্রেতা—সবার নজর এখন সোনা ও রুপোর দামের দিকে। ইতিহাসে প্রথমবার রুপোর দাম ৩ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ায় তৈরি হয়েছে নতুন রেকর্ড। একই সঙ্গে সোনার দামও পৌঁছেছে এমন উচ্চতায়, যা কার্যত বাজারে আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উত্থান শুধু সাময়িক নয়—এর পিছনে রয়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বিনিয়োগ প্রবণতার বড় বদল।
রেকর্ড গড়ল রুপোর দাম
সাম্প্রতিক বাজার তথ্য অনুযায়ী, এক কেজি রুপোর দাম বেড়ে হয়েছে ৩ লক্ষ টাকারও বেশি। আন্তর্জাতিক বাজারে রুপোর চাহিদা হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়াই এই ঐতিহাসিক উত্থানের মূল কারণ। শিল্পক্ষেত্রে—বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ ও ইলেকট্রনিক্স শিল্পে—রুপোর ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। পাশাপাশি ডলার-রুপি বিনিময় হারের ওঠানামাও রুপোর দামে বড় প্রভাব ফেলেছে।

সোনার দামেও বড় চমক
রুপোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সোনার দামও রেকর্ড উচ্চতার কাছাকাছি পৌঁছেছে। বহু শহরে ১০ গ্রাম ২৪ ক্যারেট সোনার দাম নতুন সর্বোচ্চ স্তর ছুঁয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার প্রতি আস্থাই এই ঊর্ধ্বগতির প্রধান কারণ বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।
কেন বাড়ছে সোনা ও রুপোর দাম?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং শেয়ার বাজারের অস্থিরতার কারণে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিমুক্ত সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন। সেই জায়গায় সোনা ও রুপো ফের নিরাপদ আশ্রয় হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতীয় বাজারেও।
বিনিয়োগকারীদের জন্য কী বার্তা?
যাঁরা ইতিমধ্যেই সোনা বা রুপোয় বিনিয়োগ করেছেন, তাঁদের জন্য এই ঊর্ধ্বগতি নিঃসন্দেহে স্বস্তির। তবে নতুন করে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাজারের ওঠানামা বিচার করে ধীরে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘমেয়াদে সোনা ও রুপো এখনও নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবেই বিবেচিত।


আজ সোনা-রুপোর দাম (মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি)
-
২২ ক্যারেট সোনা: ₹১৩,৮৮৫ (প্রতি ১০ গ্রাম)
-
১৮ ক্যারেট সোনা: ₹১১,৪০০ (প্রতি ১০ গ্রাম)
সবচেয়ে বেশি বার পড়া হয়েছে:
৫ দিনে ৬ হাজার টাকা দাম কমল সোনার, সুখবর ক্রেতাদের জন্যে -
রুপো: ₹৩,০৯,২৩০ (প্রতি কেজি)
👉 মনে রাখবেন, সোনা ও রুপো কেনার সময় উপরোক্ত দামের সঙ্গে ৩ শতাংশ GST অতিরিক্ত যোগ হবে।
গত কয়েক বছরে যেভাবে সোনা ও রুপোর দাম হু হু করে বেড়েছে, তাতে অনেকেই এখন অন্যান্য বিনিয়োগের পাশাপাশি মূল্যবান ধাতুতেও লগ্নি করাকে লাভজনক বিকল্প হিসেবে দেখছেন।








