ভারত বনাম ইংল্যান্ড টি-২০ সিরিজ শেষ হল ভারতের জন্য চরম হতাশার মধ্য দিয়ে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খুইয়ে শুধু যে লজ্জার রেকর্ড গড়ল টিম ইন্ডিয়া তা-ই নয়, অধিনায়ক হিসেবে টানা ছয় ম্যাচেও জয়ের দেখা পেলেন না শ্রেয়স আইয়ার। ম্যাচের পর দলের ব্যর্থতা স্বীকার করলেও তিনি জানিয়েছেন, ভারতীয় দল এখন পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে এবং সেই কারণেই সময় প্রয়োজন।
আট বছর পর ইংল্যান্ডের মাটিতে টি-২০ সিরিজ হারতে হল ভারতকে। শুধু সিরিজ হার নয়, উইকেট ও বাকি থাকা বলের হিসেবে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-২০ ক্রিকেটে এটিই ভারতের সবচেয়ে বড় পরাজয়। এই ফলের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে দলের ব্যাটিং, বোলিং এবং সামগ্রিক পরিকল্পনা নিয়ে।
শ্রেয়স আইয়ারের অধিনায়কত্ব শুরু হয়েছিল আয়ারল্যান্ড সফর দিয়ে। সেই সিরিজেও ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয় ভারত। এরপর ইংল্যান্ড সফরে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি দল। চার ম্যাচের সিরিজে একটি ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে যায়, বাকি তিনটি ম্যাচেই পরাজিত হয় ভারত।
সিরিজের শেষ ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ভারত তোলে ১৫৮ রান। দলের হয়ে একমাত্র লড়াই করেন অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। তিনি ৮০ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেললেও অন্য ব্যাটাররা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২২ রান আসে শিবম দুবের ব্যাট থেকে, তাও ২৩ বল খেলে। অধিকাংশ ব্যাটারের স্ট্রাইক রেট ছিল ১০০-এর আশেপাশে, যা টি-২০ ক্রিকেটের মানদণ্ডে যথেষ্ট হতাশাজনক।
১৫৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ভারতের বোলারদের ওপর চড়াও হয় ইংল্যান্ড। ফিল সল্ট ও হ্যারি ব্রুকের ১৪৬ রানের উদ্বোধনী জুটি কার্যত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। মাত্র ১৩.৫ ওভারেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে ইংল্যান্ড। ৯ উইকেট হাতে রেখে এবং ৩৭ বল বাকি থাকতে জয় তুলে নেয় স্বাগতিকরা। বল বাকি থাকার নিরিখে এটিই টি-২০ ক্রিকেটে ভারতের অন্যতম বড় পরাজয়।
ম্যাচ শেষে হতাশা লুকোননি শ্রেয়স আইয়ার। তিনি বলেন, “দলটা এখন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সময় ভুল হবেই। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, সেই ভুল থেকে দ্রুত শিক্ষা নেওয়া। আমি বিশ্বাস করি এই দল খুব তাড়াতাড়ি ঘুরে দাঁড়াবে।”
তবে ভারতীয় দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ঘিরে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কারণ, একই ধরনের ভুল একের পর এক ম্যাচে দেখা যাচ্ছে। ব্যাটিংয়ের ধীরগতি, বোলিংয়ে ধারহীনতা এবং ম্যাচ পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিকল্পনার অভাব স্পষ্ট হয়েছে পুরো সিরিজে। ফলে শুধু পরিবর্তনের অজুহাত নয়, দ্রুত উন্নতির প্রমাণ দেখানোর চাপও বাড়ছে নতুন অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার ও টিম ম্যানেজমেন্টের উপর।






