নিউটাউনের উন্নয়নে নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে। NKDA-র চেয়ারম্যান পদে নিযুক্ত হয়েছেন শোভন চট্টোপাধ্যায়, কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ও রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী। বৃহস্পতিবার দার্জিলিংয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের পরেই এ দিন সরকারিভাবে ঘোষণা হয় এই নিয়োগের।
এই নিয়োগের মাধ্যমে শোভনের রাজনীতিতে ফের প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রাজনীতির বাইরে থাকলেও, মমতার সঙ্গে সাম্প্রতিক সাক্ষাৎ ও সরকারি দায়িত্ব পাওয়া তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে শোভনের অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক দক্ষতাকে গুরুত্ব দিয়েছেন। কলকাতা পুরসভার মেয়র হিসেবে শোভনের মেয়াদকালে শহর উন্নয়ন ও নগর পরিকাঠামোয় একাধিক প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছিল। এবার নিউটাউন উন্নয়ন পর্ষদ বা NKDA (New Town Kolkata Development Authority)-র চেয়ারম্যান হিসেবে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলেই আশা প্রশাসনের।
রাজনৈতিক মহলের মতে, শোভন চট্টোপাধ্যায়ের এই প্রত্যাবর্তন তৃণমূলের জন্য এক কৌশলগত পদক্ষেপ। কয়েক বছর আগে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর শোভন ও বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ঘিরে তৈরি হয়েছিল রাজনৈতিক বিতর্ক। পরবর্তীতে তিনি ক্রমশ রাজনীতি থেকে দূরে সরে যান। কিন্তু এবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে সরকারি দায়িত্ব পাওয়ায় জল্পনা শুরু হয়েছে, তিনি কি তবে আবার সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরছেন?
তৃণমূলের একাংশের দাবি, শোভন এখনও দলের ‘অন্তরের মানুষ’। রাজ্যের উন্নয়নের স্বার্থে তাঁকে দায়িত্ব দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পুরনো সম্পর্ক ও আস্থার বার্তা দিয়েছেন। অন্যদিকে, বিজেপি শিবিরে এই নিয়োগকে ‘রাজনৈতিক পুনর্বাসন’ বলে কটাক্ষ করা হয়েছে।
NKDA-র চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ মানে শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, এটি এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদও। নিউটাউন কলকাতার অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল শহর। নগর পরিকল্পনা, পরিকাঠামো উন্নয়ন, সবুজ শহর প্রকল্প ও আবাসন ব্যবস্থাপনায় NKDA গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই শোভনের মতো অভিজ্ঞ নেতার হাতে এই দায়িত্ব তুলে দেওয়া রাজ্য সরকারের কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
শোভন নিজে এ বিষয়ে মুখ খুলেননি, তবে দলীয় সূত্রে খবর, তিনি এই দায়িত্বকে “জনগণের জন্য কাজের নতুন সুযোগ” হিসেবে দেখছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসাও করেছেন তিনি বৈঠকে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক ঢিলে একাধিক রাজনৈতিক বার্তা দিলেন—একদিকে পুরনো অভিজ্ঞ নেতাদের ফের সক্রিয় করার প্রচেষ্টা, অন্যদিকে বিজেপিতে যোগ দিয়ে চলে যাওয়া নেতাদের কাছে ‘ফিরে আসার আহ্বান’।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের এই পদক্ষেপে দলের ভিত আরও মজবুত হবে। শোভন চট্টোপাধ্যায়ের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও জনপ্রিয়তা নিউটাউনসহ কলকাতা সংলগ্ন অঞ্চলে তৃণমূলকে সংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে।
অর্থাৎ, মুখ্যমন্ত্রীর দার্জিলিং বৈঠকের পর শোভন চট্টোপাধ্যায়ের NKDA চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ শুধুমাত্র প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়—এটি ভবিষ্যতের রাজনীতি ঘিরে মমতার কৌশলগত পদক্ষেপ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।



