পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের নতুন জল্পনা। প্রাক্তন মন্ত্রী শশী পাঁজা (Shashi Panja)-কে শনিবার দেখা গেল এনসিপিআই (NCPI)-এর সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar)-এর চেম্বারে। দীর্ঘদিন জনসমক্ষে না দেখা যাওয়ার পর তাঁর এই সাক্ষাৎ রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) ভাঙনের আবহে এই বৈঠক ঘিরে জোর গুঞ্জন ছড়িয়েছে। যদিও শশী পাঁজা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর এই সফরের কারণ সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত।
বিধানসভা নির্বাচনে শ্যামপুকুর কেন্দ্র থেকে পরাজয়ের পর থেকেই কার্যত জনজীবনের আড়ালে চলে গিয়েছিলেন শশী পাঁজা। রাজনৈতিক কর্মসূচি বা দলীয় অনুষ্ঠানে তাঁকে প্রায় দেখাই যায়নি। এই পরিস্থিতিতে কালীঘাটে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ফার্টিলিটি ক্লিনিকে তাঁর উপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, একসময় তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-এর মহিলা নেতৃত্বের অন্যতম মুখ ছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya), কৃষ্ণা চক্রবর্তী (Krishna Chakraborty) এবং শশী পাঁজা। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কাকলি ঘোষ দস্তিদার এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন এবং বর্তমানে লোকসভায় ওই দলের মুখ্য সচেতকের দায়িত্বে রয়েছেন। অন্যদিকে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও কৃষ্ণা চক্রবর্তী যোগ দিয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী তৃণমূল শিবিরে।
এই প্রেক্ষাপটে শশী পাঁজার কাকলির সঙ্গে সাক্ষাৎ ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এটি ভবিষ্যতের কোনও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত হতে পারে। তবে এই দাবির পক্ষে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রমাণ বা ঘোষণা সামনে আসেনি।


অন্যদিকে, শশী পাঁজা নিজেই এই জল্পনায় জল ঢালার চেষ্টা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত কারণেই কাকলি ঘোষ দস্তিদারের চেম্বারে গিয়েছিলেন এবং এই সাক্ষাতের সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই।
তবে তৃণমূলের সাম্প্রতিক ভাঙন এবং একাধিক নেতার দলবদলের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের নজর এখন শশী পাঁজার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। তিনি আদৌ কোনও নতুন রাজনৈতিক শিবিরে যোগ দেবেন কি না, নাকি বর্তমান জল্পনা শুধুই রাজনৈতিক মহলের অনুমান— তার উত্তর মিলবে আগামী দিনে।





