জাতীয় দলে ফেরার লড়াইয়ে নিজের সেরাটা উজাড় করে দিচ্ছেন মহম্মদ সামি। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত উইকেট নিয়ে নির্বাচকদের নজর কাড়ছেন তিনি। সোমবার সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফি–র গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও তাঁর আগুনে বোলিং নজর কাড়ল সকলের। কিন্তু দলকে জেতানোর মতো সমর্থন পেলেন না বাকি ব্যাটারদের থেকে। হরিয়ানার বিরুদ্ধে ২৪ রানে হার মানতেই গ্রুপ পর্ব থেকেই টুর্নামেন্টকে বিদায় জানালো বাংলা।
এই ম্যাচকে ঘিরে প্রত্যাশা ছিল বেশি, কারণ এটিই ছিল লক্ষ্মীরতন শুক্লার দলের ডু-অর-ডাই সুযোগ। কিন্তু সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফি–তে সামির ব্যক্তিগত সাফল্য দলের ব্যর্থতা ঢাকতে পারল না।


ম্যাচে সামি তুলে নিলেন চার উইকেট, যা এই টুর্নামেন্টে তাঁর দ্বিতীয় চার-উইকেট প্রাপ্তি। সাত ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ মোট ১৬ উইকেট। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, সামির এই ধারাবাহিকতা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে তাঁকে সাদা বলের দল থেকে বাদ দেওয়া ছিল বড় ভুল। নির্বাচক কমিটি ও গৌতম গম্ভীরদের কাছে সেই বার্তাই যেন ফের তুলে দিল তাঁর এই পারফরম্যান্স।
সামির দুর্দান্ত ৪ উইকেটও বাঁচাল না বাংলা, সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফি থেকে বিদায়
হরিয়ানার বিরুদ্ধে সামির শুরুটা ছিল ছন্দময়। ১৮তম ও ২০তম ওভারে দু’টি করে মোট চার উইকেট তুলে দলে ফেরানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি। তাঁর বোলিং ফিগার দাঁড়ায় চার ওভারে ৩০ রানে চার উইকেট। কিন্তু বাকি বোলাররা তাল মিলিয়ে উঠতে পারেননি। আকাশ দীপ ও সায়ন ঘোষ উইকেট পেলেও প্রচুর রান খরচ হয়ে যায়। হরিয়ানা শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ১৯১ রানের বড় স্কোর তুলে রাখে।
বাংলার ইনিংস শুরু থেকেই ভেঙে পড়ে। ১৯২ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে নিয়মিত উইকেট হারানো থামেনি একবারও। দলকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব ছিল সিনিয়র ব্যাটারদের, কিন্তু করণ লাল মাত্র ৬, অভিমন্যু ঈশ্বরন ১১ রান করে দ্রুত ফিরলে চাপ বাড়ে।
এই চাপ কিছুটা কমানোর চেষ্টা করেন অভিষেক পোড়েল। তাঁর ২৪ বলে ঝোড়ো ৪৭ রানের ইনিংস আশা জাগালেও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি সেই লড়াই। যুবরাজ কেশওয়ানি (২৫) ও শাহবাজ আহমেদ (৩) ব্যর্থ হওয়ায় মিডল অর্ডার ভেঙে পড়ে।


এক প্রান্তে লড়ে যাচ্ছিলেন ঋত্বিক চট্টোপাধ্যায়। ৩৩ বলে ৪৪ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেললেও ১৬তম ওভারে রান আউট হয়ে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়ে যায় বাংলার জয়ের সব আশা। শেষ দিকের ব্যাটাররাও ক্রিজে টিকতে পারেননি। ফলে ১৬৭ রানে অল আউট হয়ে পরাজয় স্বীকার করতে হয় বাংলাকে।
এই হারের ফলে স্পষ্ট হয়ে গেল—একাধিক ম্যাচে পয়েন্ট খুইয়ে সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফি–র গ্রুপ পর্বেই আটকে রইল বাংলা। দলের সামগ্রিক ব্যর্থতা হলেও সামির ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স বহু প্রশ্ন তুলে দিয়েছে নির্বাচকদের সামনে। ভারতীয় দলে তাঁর ফেরার দাবি যে আরও জোরালো হল, তা বলাই যায়।
টুর্নামেন্ট শেষে বাংলার সামনে এখন নতুন করে ব্যাটিং কাঠামো সাজানোর চ্যালেঞ্জ। আর সামির সামনে সুযোগ—এই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে জাতীয় দলে নিজের দরজা ফের খুলে দেওয়া।








