নজরবন্দি ব্যুরোঃ সারনা ধর্ম কোডের দাবিতে সম্প্রতি রাজ্যের একাধিক জেলায় রেল অবরোধের ছবি দেখা গেছে। এমনকি দাবি না মিটলে আগামী দিনে বিরাট আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন আদিবাসী সেঙ্গেল অভিযান নামের এক সংগঠন। এরই মধ্যে শুক্রবার সারি ও সারনা ধর্ম সংক্রান্ত প্রস্তাব গৃহীত হল বিধানসভায়। ১৮৫ ধারায় প্রস্তাব আনেন তৃণমূলের বিধায়করা। এক ঘন্টা ধরে আলোচনার পর এই প্রস্তাব গৃহীত হয়।
আরও পড়ুনঃ Kuntal Ghosh: সব কিছুর মধ্যে একটা পর্দা রয়েছে, কাদের আড়াল করছেন কুন্তল?


এদিন আলোচনা পর্বে ছিলেন, শাসকদলের রাজীবলোচন সোরেন, বীরবাহা হাঁসদা , সন্ধ্যারানি টুডু, বুলুচিক বরাইক, দুলাল মুর্মু, পরেশ মুর্মু। বিজেপির তরফে বলেন, বুধরাই টুডু, কমলাকান্ত হাঁসদা, মনোজ টিগ্গারা। সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে এদিন বিধানসভবায় এই প্রস্তাব পাশ হয়ে যায়। এরপর কার্যকরের জন্য কেন্দ্র সরকারের কাছে যাবে।

এপ্রসঙ্গে তৃণমূল বিধায়ক বীরবাহা হাঁসদা বলেন, বিভিন্ন সংগঠন বিভিন্নভাবে প্রতিদিন রাস্তায় নামছে। আমাদের মুখ্যমন্ত্রীকেও তারা জানিয়েছে। তাই আমরাও সরব হয়েছি। আমরা মানুষের দাবি তুলে ধরছি। আসলে ওরা যখন আদিবাসী প্রেমের কথা আসে, তখন গলায় গামছা নিয়ে ঢোকে। বাকি সময় এই আদিবাসীরা রাস্তায় নেমেছেন, কী করছেন সে খবর তো রাখেন না। পাল্টা বিজেপির বক্তব্য পঞ্চায়েত নির্বাচনের কথা ভেবে এই পদক্ষেপ নিয়েছে তৃণমূল।
অবিলম্বে সারনা ধর্ম কোড চালু করার দাবিতে রাজ্যজুড়ে রেল অবরোধ হয়। পূর্ব বর্ধমানের জৌগ্রাম, মেদিনীপুরের খেমাশুলি, পুরুলিয়ার কাঁটাডিতে সকাল থেকেই রেল অবরোধ করেন আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ। আদিবাসী সমাজের তরফে দীর্ঘদিন ধরে সারনা ধর্মের দাবি করা হচ্ছিল। আন্দোলনকারীদের মূল বক্তব্য, তাঁরা নিজস্ব ধর্মাচরণ চান। আর তার জন্যই সারনা ধর্ম স্বীকৃতি পাক দাবি তাদের। আদিবাসী সেঙ্গেল অভিযান এই অবরোধের ডাক দেওয়া হয়।


সারি ও সারনা ধর্ম সংক্রান্ত প্রস্তাব গৃহীত হল বিধানসভায়, সম্মতি দেবে কেন্দ্র?

সম্প্রতি জঙ্গলমহল সফরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে বারবার সারনা ধর্মের স্বীকৃতির সমর্থনে মন্তব্য করতে শোনা যায়। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং মেদিনীপুরের সভা থেকে এই বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি। এখন সেই প্রস্তাব পাশ করাল তৃণমূল।







