সঞ্চার সাথী অ্যাপ নিয়ে চলমান বিতর্কের মাঝেই কেন্দ্রীয় যোগাযোগ মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া লোকসভায় দাঁড়িয়ে জানালেন, এই সঞ্চার সাথী অ্যাপ কোনওভাবেই আড়িপাতা বা স্নুপিংয়ের উপযোগী নয়। সরকার যে অ্যাপটিকে বাধ্যতামূলক করেছে বলে আলোচনা চলছে, তার আসল উদ্দেশ্য নিয়েই ছড়িয়ে পড়েছে নানা ভুল ধারণা। আর সেই কারণেই সংসদে দাঁড়িয়ে মন্ত্রী নিজে বিষয়টি পরিষ্কার করলেন।
তিনি জানান, এই অ্যাপ কেবলমাত্র বৈধ ও অবৈধ মোবাইল সংযোগ চিহ্নিত করার কাজ করে। ফলে ব্যক্তিগত কথোপকথন বা ব্যক্তিগত তথ্য নজরদারি করার সুযোগ অ্যাপটির নেই। সিন্ধিয়ার ভাষায়, “এই অ্যাপ থেকে স্নুপিং সম্ভব নয়, ভবিষ্যতেও হবে না।”
লোকসভায় শীতকালীন অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, অনেকেই মনে করছেন শুধু ফোনে ইনস্টল করে রাখলেই সঞ্চার সাথী অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ শুরু করবে। কিন্তু বাস্তবে তা নয়। অ্যাপটি ব্যবহার করা সম্পূর্ণ ব্যবহারকারীর সিদ্ধান্ত। অর্থাৎ, এটি বাধ্যতামূলক নয়—এ কথাই স্পষ্ট করে দেন মন্ত্রী।
সঞ্চার সাথী অ্যাপ নিয়ে সিন্ধিয়ার স্পষ্ট বার্তা, ‘আড়িপাতা সম্ভব নয়’
বিরোধীদের তরফে অভিযোগ উঠেছিল, সঞ্চার সাথী অ্যাপ বাধ্যতামূলক করা হলে সরকার মানুষের ব্যক্তিগত কথাবার্তা ও চলাচল নজরদারিতে রাখতে চাইছে। অনেক সাংসদ প্রশ্ন তোলেন, এটি কি ডিজিটাল নজরদারি চালানোর আর এক পথ?
সেই অভিযোগের জবাবে সিন্ধিয়া বলেন, সঞ্চার সাথী অ্যাপ কোনওভাবেই গুপ্তচরবৃত্তি বা আড়িপাতার মঞ্চ নয়। বরং টেলিকম সেক্টরে বেআইনি সিম, প্রতারক নম্বর ও জাল সংযোগ ধরতেই অ্যাপটি তৈরি করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, অ্যাপটির প্রধান লক্ষ্য নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা—ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ নয়।
এদিকে বিরোধী দলগুলোর মত, সরকারের নির্দেশের পর থেকেই অনেক টেলিকম পরিষেবায় সঞ্চার সাথী ইনস্টল করার চাপ সৃষ্টি হয়েছে। আর সেই থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত। সোশ্যাল মিডিয়ায়ও প্রশ্ন ঘুরছে এই অ্যাপ কি সত্যিই data privacy বজায় রাখে?
কিন্তু সিন্ধিয়ার মতে, সঞ্চার সাথী সম্পূর্ণ নিরাপদ। তিনি জানান, অ্যাপটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনও তথ্য সংগ্রহ করে না। ব্যবহারকারী চাইলে নিজের নম্বর যাচাই করতে পারবেন, কতগুলি সিম তার নামে আছে সেটিও জানতে পারবেন—শুধু এতটুকুই।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশজুড়ে বেড়েছে ফিশিং, সিম-সোয়াপিং এবং সাইবার প্রতারণা। সেই প্রেক্ষিতেই সঞ্চার সাথী অ্যাপ তৈরি করেছিল টেলিকম বিভাগ। অ্যাপের এমন ব্যবহার নিয়ে সরকার বারবার জানিয়েছে, এটি cyber fraud prevention-এ সাহায্য করে। তবে নজরদারি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক থামছে না।
যদিও সংসদে সিন্ধিয়ার বক্তব্যের পর স্পষ্ট হলো, সরকার এই অ্যাপকে কোনওভাবেই নজরদারির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে না। বরং টেলিকম পরিষেবা স্বচ্ছ রাখা ও জনগণকে সুরক্ষা দেওয়ার দিকেই জোর দিচ্ছে।
এখন দেখার, মন্ত্রীর এই ব্যাখ্যার পরেও বিরোধীরা বিতর্ক জারি রাখে কি না। তবে কেন্দ্রের দাবি, সঞ্চার সাথী অ্যাপ মানুষের স্বাধীনতা নয়, বরং নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করতেই চালু করা হয়েছে।







