পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উচ্চশিক্ষা দফতর চালু করেছে সহানুভূতি স্কলারশিপ ২০২৫, যা প্রতিবন্ধী ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার পথ সহজ করতে অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদান করে। রাজ্যের বহু মেধাবী শিক্ষার্থী আর্থিক সংকটে পড়ে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ করতে পারে না। তাই তাদের পাশে দাঁড়াতেই তৈরি হয়েছে এই মানবিক স্কলারশিপ প্রকল্প। প্রতিবছর বিকাশ ভবনের মাধ্যমে এই স্কলারশিপ প্রদান করা হয় এবং এ বছরও আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এই সহানুভূতি স্কলারশিপ ২০২৫ মূলত শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী পড়ুয়াদের জন্য বিশেষভাবে পরিকল্পিত। আবেদনকারীর অবশ্যই সরকারি প্রতিবন্ধী সার্টিফিকেট থাকতে হবে। দৃষ্টি, শ্রবণ, মানসিক বা অস্থি-সংক্রান্ত যে কোনও ধরনের প্রতিবন্ধকতা থাকলেও আবেদন করা যায়, তবে শর্ত—প্রতিবন্ধকতার হার কমপক্ষে ৪০ শতাংশ হতে হবে।
এই যোগ্যতা পূরণ করতে পারলে প্রতিটি নির্বাচিত ছাত্রছাত্রী বছরে ১২,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা বা স্টাইপেন্ড পান, যা টিউশন ফি থেকে শুরু করে পড়াশোনার বিভিন্ন খরচ বহনে সাহায্য করে।


এ স্কলারশিপ নবম শ্রেণী থেকে শুরু করে কলেজের বিভিন্ন কোর্সে পড়ুয়াদের জন্য প্রযোজ্য। আবেদনকারীর অবশ্যই বিগত পরীক্ষায় ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে এবং বর্তমানে পরবর্তী শ্রেণীতে ভর্তি থাকতে হবে। এছাড়া পারিবারিক বাৎসরিক আয় ২ লক্ষ টাকার বেশি হলে আবেদন গ্রহণ করা হয় না। অর্থাৎ অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য এটি সত্যিই একটি সহায়ক উদ্যোগ।
সহানুভূতি স্কলারশিপ ২০২৫–এর আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অফলাইন। এজন্য প্রথমে স্কলারশিপ ফর্ম ডাউনলোড করে প্রিন্ট করতে হবে। তার পরে নিজের ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষা সংক্রান্ত বিবরণ এবং প্রতিবন্ধকতার তথ্য উল্লেখ করে ফর্ম পূরণ করতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট যেমন—প্রতিবন্ধী সার্টিফিকেট, মার্কশিট, আয় সার্টিফিকেট ইত্যাদি যুক্ত করে সংশ্লিষ্ট জেলার জনশিক্ষা প্রচার আধিকারিকের অফিসে জমা দিতে হবে। সঠিক নথি না দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে, তাই ফর্ম জমা দেওয়ার আগে প্রতিটি তথ্য খুঁটিয়ে দেখে নেওয়া জরুরি।
সহানুভূতি স্কলারশিপে আবেদন করার শেষ তারিখ ২৮ নভেম্বর ২০২৫। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ফর্ম জমা না দিলে আবেদন গ্রহণ করা হবে না। তাই যোগ্য সকল ছাত্রছাত্রীদের যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করে আবেদন সম্পন্ন করার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকরা।


এই স্কলারশিপ প্রতিবন্ধী পড়ুয়াদের শুধু অর্থনৈতিক সাহায্যই করে না, বরং তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে যাওয়ার উৎসাহ দেয়। রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ বহু স্বপ্নবিলাসী ছাত্রছাত্রীর জীবনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনছে—এটাই সহানুভূতি স্কলারশিপ ২০২৫–এর মূল উদ্দেশ্য।








