‘বোর্ড অফ পিস’-এ কি সত্যিই যোগ দিচ্ছে রাশিয়া? ট্রাম্পের দাবির পর কী বললেন পুতিন

ট্রাম্পের ‘বোর্ড অফ পিস’-এ রাশিয়ার যোগদানের দাবি ঘিরে জল্পনা। শর্তসাপেক্ষে সম্মতির ইঙ্গিত দিলেন পুতিন, কৌশলগত মিত্রদের সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত মস্কোর।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে ফের চর্চার কেন্দ্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অফ পিস’। গাজ়া থেকে শুরু করে গোটা বিশ্বের শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে গঠিত এই প্রস্তাবে রাশিয়া যোগ দিতে রাজি—এমনই দাবি করেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্টের সেই ঘোষণার পর মস্কো জানাল নিজেদের স্পষ্ট ও হিসেবি অবস্থান। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়ে দিলেন, শর্ত পূরণ হলেই তবেই এই আন্তর্জাতিক বোর্ডে যোগ দেওয়ার প্রশ্ন বিবেচিত হবে।

মার্কিন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁর উদ্যোগে গঠিত ‘বোর্ড অফ পিস’-এ যোগ দিতে আগ্রহ দেখিয়েছে রাশিয়া। বুধবার সুইৎজ়ারল্যান্ডের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম-এর দাভোস সম্মেলন থেকেই তিনি এই ঘোষণা করেন। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই ভারত-সহ ৫০টিরও বেশি দেশকে এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে আমেরিকা, যার মধ্যে রয়েছে রাশিয়াও।

তবে ট্রাম্পের এই দাবির পরেই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে পুতিন জানান, ‘বোর্ড অফ পিস’-এ যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তড়িঘড়ি নেওয়া হবে না। প্রথমে রাশিয়ার বিদেশ মন্ত্রককে সমস্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি মস্কোর কৌশলগত মিত্র দেশগুলির সঙ্গেও আলোচনা করা হবে। সব কিছু বিচার-বিশ্লেষণের পরেই আমন্ত্রণের বিষয়ে চূড়ান্ত অবস্থান জানাবে রাশিয়া।

পুতিন বলেন, “আন্তর্জাতিক স্থিতাবস্থা বজায় রাখার যে কোনও উদ্যোগকে রাশিয়া বরাবরই সমর্থন করে এসেছে। ভবিষ্যতেও করবে।” একই সঙ্গে তিনি রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন।

উল্লেখযোগ্য ভাবে, ট্রাম্প প্রস্তাবিত এই ‘বোর্ড অফ পিস’-এ যোগ দিলে তিন বছরের জন্য সদস্যপদ দেওয়া হবে। তবে স্থায়ী সদস্য হতে হলে দিতে হবে ১০০ কোটি ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা। রাশিয়া কি এত বিপুল অর্থ খরচ করে স্থায়ী সদস্যপদ নেবে? এই প্রশ্নে সরাসরি উত্তর না দিয়ে পুতিন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন—আগের মার্কিন প্রশাসন রাশিয়ার যে সম্পদ বাজেয়াপ্ত করেছে, সেখান থেকেই এই অর্থ মেটানো যেতে পারে।

সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের দাবির পরেও রাশিয়ার অবস্থান এখনই ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কূটনৈতিক হিসেব-নিকেশের পরেই মস্কো তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত