লোকসভা নির্বাচনের অন্যতম হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবার। কারণটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না! তৃণমূল সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লড়েন এই কেন্দ্র থেকে। কিন্তু ডায়মন্ডে এখনও পর্যন্ত ‘উপযুক্ত’ প্রার্থী দিতে পারেননি বিরোধীদের কেউই।
আরও পড়ুন: ভোটপ্রচারে বালুরঘাটে মোদী, সুকান্ত-গড়ে মেগা সভা প্রধানমন্ত্রীর, কবে?
এরই মধ্যে অসমর্থিত সূত্রে খবর, ডায়মন্ড হারবারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রয়াত কংগ্রেস নেতা সোমেন মিত্রের পুত্র রোহন মিত্রকে টিকিট দিতে পারে হাত শিবির। কংগ্রেসের সর্বভারতীয় শীর্ষনেতৃত্ব ইতিমধ্যেই রোহনকে সবুজ সংকেত দিয়েছেন। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই তাঁর নাম ঘোষণা করতে পারে কংগ্রেস। কিন্তু একটা গেরো থেকেই যাচ্ছে!

এক্ষেত্রে সেই গেরোর নাম প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। একুশ সালে অধীরকে চিঠি দিয়ে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে ইস্তফা দেন রোহন মিত্র। অধীরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক খুব একটা ভালো নয় বলেও হাত শিবিরের অন্দরে কানাঘুষো শোনা যায়। এখন, অধীর যদি একান্তই ‘বেঁকে’ বসেন, তাহলে রোহনের টিকিট অনিশ্চিত হয়ে গেলেও যেতে পারে।

ডায়মন্ডে অভিষেকের বিরুদ্ধে রোহন প্রার্থী হলে একটা হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে এমনটাই রাজনৈতিক মহলের মত। কারণ, এই ডায়মন্ড হারবার থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে দীর্ঘদিনের বাম শাসনের অবসান ঘটান সোমেন মিত্র। ২০০৯ সালে পরাস্ত করেন সিপিআইএম-এর শমীক লাহিড়ীকে। এরপর তৃণমূলের সঙ্গে মতানৈক্য হওয়ায় ফের কংগ্রেসে ফিরে যান সোমেন।
বিজেপি নয়, ডায়মন্ডে বড় চমক কংগ্রেসের, অভিষেকের বিরুদ্ধে সোমেন-পুত্র রোহন মিত্র!
এরপর সেখানে ভোটে লড়তে আসেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পরপর দু’বার সেই কেন্দ্র থেকে জিতে সাংসদ হন তিনি। অন্যদিকে, আইএসএফ-এর তরফেও নওশাদ সিদ্দিকীকে টিকিট দেবার সম্ভাবনা খুব ক্ষীণ। বিজেপিও এখনও পর্যন্ত নাম ঘোষণা করেনি। সিপিআইএম ছাত্রনেতা প্রতীক-উর-রহমানের কথা ভাবলেও তা চূড়ান্ত হয়নি।

ফলে, ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র নিয়ে বিরোধীদের অনন্ত ভাবনার যেন কোনও অবসানই নেই! একেবারে শেষ দফায় সেখানে ভোট। সময় আছে এখনও। বিজেপি রুদ্রনীল ঘোষ বা কৌস্তভ বাগচীকে টিকিট দিতে পারে বলে জল্পনা চলছে। এরই মধ্যে যদি রোহনকে কংগ্রেস অভিষেকের বিরুদ্ধে টিকিট দেয় তাহলে কিন্তু ‘খেলা’ জমে যাবে ডায়মন্ড হারবারে এমনটাই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।



