নজরবন্দি ব্যুরো: রেখা। এই নামটাই যথেষ্ট। আর কিছু বলার দরকার হয় না। মোহময়ী এক নারী তাঁর রূপে, অভিনয়ে আজও যেন বশ করে রেখেছে বহু মানুষের মন। কিন্তু তাঁর অনিচ্ছা সত্বেও চলচ্চিত্র জগতে পা রেখেছিলেন রেখা। শুধুমাত্র তাঁর বাবা মায়ের ইচ্ছেকে প্রাধান্য দিতে। সম্প্রতি তাঁকে খুব একটা সিলভার স্ক্রিনে দেখা যায় না- কিন্তু তারপরেও রেখা টিনসেল টাউনের আলোচনার অন্যতম একটি নাম। কারণ তাঁর জীবনে ধারা, তাঁকে নিয়ে তৈরি হওয়া নানান গসিপ।
আরও পড়ুন: মায়ানগরীতে পাড়ি দিচ্ছেন মিমি চক্রবর্তী, সঙ্গী হচ্ছেন বাংলার অসংখ্য তরুণীর ক্রাশ
১৯৮৬ বিবিসিকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে রেখা জানিয়েছিলেন তাঁকে জোর করে ইন্ডাস্ট্রিতে নিয়ে আসা হয়েছিল। তাঁর বাবা শিবাজি গণেশান ও মা পুষ্পবলই জোর করে ছিলেন সিনেমা জগৎকে বেছে নিতে। তাঁকে বাধ্য করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ। রেখা জানিয়েছিলেন তাঁরা সিনেমা নিয়ে খুবই আগ্রহী ছিলেন। তিনি আরও বলেছেন, কেরিয়ারের শুরির প্রথম কয়েক বছর ইন্ডাস্ট্রির সবকিছুই তাঁর খারাপ লাগত। সবকিছুই তিনি অপছন্দ করতে। কারণ তিনি মোটেও আগ্রহী ছিলেন না।

আর যখন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে তার পিতামাতার জনপ্রিয়তা তাকে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে চাপ দিয়েছিল, রেখা ব্যাখ্যা করেছিলেন, “আমার বাবা, এত বেশি নয়, কিন্তু আমার মা সত্যিই চেয়েছিলেন যে আমি চলচ্চিত্রে কাজ করি। কিন্তু অন্তত ছয় বা সাত বছর ধরে, আমি যা করছিলাম তা পছন্দ করিনি। আমাকে শুটিংয়ের জন্য টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, আমি ডাবল শিফট করতাম, আমি এটি মোটেও পছন্দ করিনি।”
রেখা আরও বলেন তিনি কখনই অভিনেত্রী হতে চাননি। তারপরই রেখা বলে তাঁকে মেরে মেরে অভিনেত্রী তৈরি করা হয়েছিল। ‘সিল সিলা’ থেকে শুরু করে ‘মুকাদ্দর কা সিকান্দর’, উমরাহ জান -এর মত একের পর এক হিট ছবি পর্দায় এসেছে তাঁরই হাত ধরে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর অভিনয় মন কেড়েছিল দর্শকদের।শুধু অভিনয় নয় তিনি অভিনয়ের পাশাপাশি মিমিক্রিটাও খুব ভালো করতে পারেন রেখা।
বাবা-মা জন্য অভিনয় এসেছিলেন রেখা, এতদিন পর হঠাৎ এই মন্তব্য কেন?

‘ইয়ারানা’ ছবিতে নীতু সিংহের গলা তাঁরই। আবার ‘ওয়ারিস’ ছবিতে স্মিতা পাতিলের জন্য ডাবিং করেন। গানের প্রতি একটা আলাদা ভালোলাগা রয়েছে রেখার। রাহুল দেব বর্মনের অনুরোধে ‘খুবসুরত’ ছবিতে দুটো গানও গেয়েছিলেন।রেখার জীবনের অন্যতম ইচ্ছে ছিল, তিনি এয়ার হোস্টেস হবেন এবং সারা বিশ্ব ঘুরে বেড়াবেন। নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে সবসময় সকলের চোখের আড়ালে রাখতেই পছন্দ করতেন রেখা। আজও তা বজায় রেখে চলেছেন।



