বেঙ্গালুরুতে RBI Officer Fraud-এর নয়া অধ্যায় যেন বলিউড থ্রিলারের চেয়েও বেশি চাঞ্চল্যকর। দিনের আলোয় ব্যস্ত রাস্তার ওপর তিনটি ব্যাঙ্কের ক্যাশ বহনকারী একটি ভ্যানকে আটকে মাত্র ৩০ মিনিটে সাত কোটি টাকা লুট করল এক সুপরিকল্পিত প্রতারণা চক্র। ভুয়ো আরবিআই কর্তা সেজে দুষ্কৃতীদের এই দুঃসাহসিক ডাকাতিতে স্তম্ভিত পুলিশ প্রশাসন।
ঘটনা ঘটে বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ। দক্ষিণ বেঙ্গালুরুর এক উড়ালপুলে ক্যাশ ভ্যানটির পথ আটকে দাঁড়ায় প্রতারক দলের দুটি গাড়ি। ভ্যানের ভিতরে ছিল তিনটি ব্যাঙ্কের বড় অঙ্কের নগদ, যা বিভিন্ন এটিএমে ভরার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। দুষ্কৃতীরা নিজেদের RBI Officer পরিচয় দিয়ে সরাসরি কর্মীদের জানান—তাঁদের সংস্থা আরবিআই নির্দেশিকা লঙ্ঘন করেছে, তাই তদন্তের স্বার্থে তাঁদের থানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।


চমকে যান ক্যাশ ভ্যানের তিন কর্মী। তাঁদের গাড়ি থেকে নামিয়ে অন্য গাড়িতে তুলতে থাকে দুষ্কৃতীরা। অন্যদিকে ভুয়ো কর্মকর্তাদের কয়েকজন ভ্যানের ভেতরে উঠে বসে। পরে দুই গাড়ি দুইদিকে ছুটতে থাকে। মারুতির পিছনে সঙ্গতিস্বরূপ এগোয় ক্যাশ ভ্যানটি। কয়েক কিলোমিটার যাওয়ার পর এক জায়গায় ভ্যান থামিয়ে কর্মীদের নেমে যেতে বলা হয় এবং স্থানীয় থানায় পৌঁছাতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
কিন্তু এর পরই সত্যিকারের অপারেশন শুরু করে ভুয়ো RBI Officer চক্র। ক্যাশ ভ্যানের চালককে বন্দুকের মুখে রাস্তার মাঝে নামিয়ে প্রধান ক্যাশবাক্সগুলি গাড়িতে তুলতে বাধ্য করা হয়। সব টাকা তুলে নেওয়ার পর চালককে রাস্তার মাঝেই ফেলে রেখে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। পুরো ঘটনাটি ঘটে মাত্র ৩০ মিনিটে।
অন্যদিকে, প্রতারক দলের নির্দেশ অনুযায়ী ক্যাশ ভ্যানের কর্মীরা সোজা সিদ্দাপুরা থানায় পৌঁছে যান। সেখানে গিয়ে অপেক্ষা করতে করতে শেষমেশ তাঁদের সন্দেহ হয়। কয়েক ঘণ্টা পর তাঁরা যখন পুলিশকে সব জানান, তখনই সামনে আসে RBI Officer সেজে এই ভয়ঙ্কর প্রতারণা।


পুলিশ তদন্তে প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে, দুষ্কৃতীদের গাড়িগুলিতে সরকারি লোগো লাগানো ছিল, যাতে সন্দেহ না হয়। গাড়িতে লাগানো ছিল ভুয়ো নম্বর প্লেটও। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্তত আটটি দল তদন্তে নেমেছে। এখনও পর্যন্ত গ্যাংটির কোনও সদস্যকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।
পুলিশ মনে করছে, এটি অত্যন্ত অভিজ্ঞ এবং বড় চক্র। পরিকল্পনা, সময় নির্বাচন, গাড়ির ব্যবহার—সবই এমনভাবে সাজানো ছিল যে ক্যাশ ভ্যানের কর্মীরা প্রতারণা বুঝতেই পারেননি। তদন্তকারীদের অনুমান, গ্যাংটি আগে থেকেই ভ্যানের রুট ও সময় সম্পর্কে পুরো তথ্য জেনে রেখেছিল।
RBI Officer সেজে লুটের কাণ্ডটি দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বড় প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে। ব্যস্ত শহরের মধ্যে নিরাপত্তার এমন বড় ফাঁক কিভাবে তৈরি হল, তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। ক্যাশ ভ্যান কোম্পানির পক্ষ থেকেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে পুনরায় মূল্যায়ন শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার পর বেঙ্গালুরুর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও কঠোর নজরদারি ও রুটিন চেক বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি, ক্যাশ ভ্যানগুলিকে অতিরিক্ত যাচাই-বাছাই এবং ট্র্যাকিং-এর আওতায় আনার বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।








