ফাঁকা হেস্টিংস! মিটিং জেনেও আসেননি রাজীব-মুকুল, দিল্লিতে শুভেন্দু, বিরক্ত দিলীপ

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ ফাঁকা হেস্টিংস! আজকাল বিজেপির পার্তি অফিস প্রায় ফাঁকা থাকছে বলেই কয়েকদিন আগেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি জানিয়েছিলেন, চার তলা ঝাঁ চকচকে পার্টি অফিসের পিছনে মাস গেলে আড়াই লাখ গোনার কোন মানে নেই, তাই ৩ তলা ছেড়ে দিয়ে রাখবেন কেবল এক তলা। তবে তার আগে আজ ছিলো বিজেপির দলীয় বৈঠক।

আরও পড়ুনঃ তড়িঘড়ি শাহি-তলব, দল গোছাতে দিলীপের জায়গায় বসবেন শুভেন্দু!

বাংলায় বেশ বড়ো মার্জিনে হারের পর এক মাস ধরে পোস্টমর্টাম করেছে দল। নেতারা হাজার আলাপ আলোচনার পর আজ একত্রিত ভাবে বসছেন পার্টি অফিসে। কিন্তু সেই পার্টি অফিস এখন পর্যন্ত কার্যত ফাঁকা। বৈঠক জেনেও এলেন না রাজীব-মুকুল। এদিকে দিলীপ যখন লাগাতার বিক্ষোভের মুখে পড়ে আজ দলীয় বৈঠকে বসছেন তখনী দিল্লিতে শাহ-নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক করছেন শুভেন্দু। সব মিলিয়ে গরহাজিরের তালিকা দেখে একপ্রকার বিরক্ত রাজ্য সভাপতি।

বিজেপির অন্দরে যে ফাঁটল বেশ চওড়া হয়েছে তা টের পাওয়া গিয়েছিল আগের বৈঠকেই। অনেকেই অনুপস্থিত ছিলেন, উপস্থিত থাকলেও বাকিরা কথা বলেন নি সেভবে। শুধু নিজেদের অভিযোগ শুনিয়েছিলেন শুভেন্দু, সৌমিত্র-অর্জুন। দলের নেতারাও একাধিক ক্ষেত্রে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অন্যের নামে। আজকাল প্রায় চুপ থাকেন রাজীব। সুত্রের খবর দোটানায় আটকে একপ্রকার নিষ্ক্রিয় হয়ে আছেন তিনি।  এই পরিস্থিতিতে যেখানে বিরাট রদবদলের সম্ভাবনা নিয়ে আজকের বৈঠক ডেকেছে বঙ্গ বিজেপি সেখানেই গরহাজির হেভিওয়েটরা!

এদিকে রদবদলের বৈঠকের আগে শুভেন্দুকে দিল্লি তলবে হাজার জল্পনা তৈরি হয়েছে ইতিমধ্যেই। অনেকেই মনে করছেন দলের দায়িত্ব হাতবদল হয়ে দিলীপ থেকে যাবে শুভেন্দুর কাছে। অনেকের মতে কয়েকদিন আগে এসেই শুভেন্দুর বিরোধী দলনেতা হওয়া মেনে নিতে পারছে বঙ্গ  বিজেপির বড়ো অংশ, তবে দলের তরফ থেকে স্পষ্ট কিছু না জানালেও, এক নেতার কথায় রাজ্যের ভোট পরবর্তী হিংসার কারণে রাষ্ট্রপতিকে চিঠি প্রদান এবং সেই বিষয়েই আলোচনার কারণে দিল্লি তলব বিরোধী রাজ্যনেতাকে।

সূত্রের খবর একযোগে বাংলায় পদ্ম ফোটানোর চেষ্টা করলেও ছন্দ কেটছে দিলিপ-শুভেন্দুর। বিজেপির ভেতরে এখনো দুজনের অনুগামীদের ভাগ স্পষ্ট। সেটাই আজকে আরও স্পষ্ট করেছে অধিকারিওর দিল্লি গমন প্রসঙ্গে দিলীপের মন্তব্য। আজ বৈঠক, আর শুভেন্দু অধিকারী শাহি তলবে দিল্লিতে, এই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন “শুভেন্দু তো জানে মিটিং আছে। তাও দিল্লি গিয়েছে। কেন গিয়েছে তা জানি না। দিল্লির নেতারা বলতে পারবেন।”

ফাঁকা হেস্টিংস! মিটিং জেনেও আসেননি রাজীব-মুকুল, মিটিং জেনেও অনুপস্থিত বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র সব্যসাচী দত্ত।  এদিকে মুকুল রায় রাজীবকে  নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরেই চর্চা হচ্ছে পুরানো ঘরে ফেরা নিয়ে। মুকুল রায়ের স্ত্রীর অসুস্থতা নিয়ে তরজা বেশ খানিকটা বেড়েছেও। মুকুল-শুভ্রাংশুর অভিমান, কঠিন সময়েও দলের কেউ যোগাযোগ করেনি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যাওয়ার পরে আচমকা পর পর খবর নিলেন বিজেপির নেতারা। তার মধ্যেই আজকের বৈঠকে একসঙ্গে এতো জনের অনুপস্থিতি বাড়িয়ে দিচ্ছে একাধিক জল্পনা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত