মেয়াদ ফুরোচ্ছে বর্তমান ডিজিপির, কিন্তু উত্তরসূরি কে—তা এখনও অনিশ্চিত। আগামী ৩১ জানুয়ারি শেষ হচ্ছে রাজ্যের ডিজিপি রাজীব কুমার-এর কার্যকাল। নতুন ডিজিপি নিয়োগ করতে গিয়ে কার্যত আইনি জটে আটকে রাজ্য সরকার। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, নির্দিষ্ট সময়ে ডিজিপি নিয়োগ নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট-এর অনুমতি নিতে হতে পারে বলেই প্রশাসনিক সূত্রের ইঙ্গিত।
নিয়ম অনুযায়ী, ডিজিপি বা মুখ্যসচিবের মতো শীর্ষ প্রশাসনিক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজ্য যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্যানেল পাঠায়, তাতে ছাড়পত্র দেয় Union Public Service Commission (ইউপিএসসি)-র এমপ্যানেলমেন্ট কমিটি। ইউপিএসসি সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার গত বছরের ১৬ ও ২৩ জুলাই কমিশনে চিঠি পাঠিয়ে ডিজিপি নিয়োগের জন্য প্যানেল তৈরির প্রস্তাব দেয়। কিন্তু সেই প্রস্তাবই ফেরত পাঠানো হয়েছে। ইউপিএসসি রাজ্যের মুখ্যসচিবকে পাঠানো চিঠিতে জানিয়েছে, আগের ডিজিপি নিয়োগের সময় নিয়মে গরমিল হয়েছিল। সেই কারণেই বর্তমান প্রক্রিয়ায় কাউকে ডিজিপি হিসেবে বেছে নেওয়া যাচ্ছে না।
জটের শিকড় ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে। ওই সময় তৎকালীন ডিজিপি মনোজ মালব্য-র মেয়াদ শেষ হয়। তার পর রাজ্যের ডিজিপি পদে নিযুক্ত হন রাজীব কুমার, তবে তিনি ছিলেন অস্থায়ী। ফলে প্রশাসনিক নথিতে শেষ ‘স্থায়ী’ ডিজিপি হিসেবে মনোজ মালব্যর নামই রয়েছে। এই প্রেক্ষিতেই ইউপিএসসি তাদের চিঠিতে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক প্রকাশ সিং মামলার-এর উল্লেখ করেছে।
ওই রায়ে স্পষ্ট বলা আছে, ডিজিপি পদে শূন্যস্থান তৈরি হওয়ার অন্তত তিন মাস আগে রাজ্যকে প্রার্থীদের প্যানেল ইউপিএসসিতে পাঠাতে হবে। যেহেতু শেষ স্থায়ী ডিজিপির মেয়াদ শেষ হয়েছিল ২০২৩-এর ডিসেম্বরে, তাই নিয়ম অনুযায়ী প্যানেল পাঠানো উচিত ছিল ওই বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যেই। কিন্তু রাজ্য সেই প্যানেল পাঠিয়েছে প্রায় দশ মাস পরে, গত বছরের জুলাইয়ে। এই বিলম্বের কারণেই এমপ্যানেলমেন্ট বৈঠক হলেও রাজ্যের ডিজিপি নিয়োগে ঐকমত্যে পৌঁছনো যায়নি।
পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় ইউপিএসসি বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রের অ্যাটর্নি জেনারেল R. Venkataramani-এর পরামর্শ চেয়েছিল। অ্যাটর্নি জেনারেলের মত, প্রায় তিন বছর পরে প্যানেল পাঠানোয় ইউপিএসসির পক্ষে রাজ্যের ডিজিপি নিয়োগে সিলমোহর দেওয়া উচিত নয়। তাঁর যুক্তি, দেরিতে প্যানেল পাঠানোর অর্থ—এই পদের জন্য যোগ্য বহু অফিসার দীর্ঘদিন বঞ্চিত হয়েছেন। তাই রাজ্য সরকারকে আগে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি নিতে হবে। শীর্ষ আদালত যদি অনুমোদন দেয়, তবেই ইউপিএসসি পরবর্তী পদক্ষেপ করতে পারে।
সব মিলিয়ে, ডিজিপি নিয়োগ প্রক্রিয়া এখন কার্যত ‘অথৈ জলে’। এই অবস্থায় রাজ্য সরকার যদি সুপ্রিম কোর্টে যায়, তা আর আশ্চর্যের হবে না বলেই প্রশাসনিক মহলের মত।



