পদ থেকে ইস্তফা দিতেই রাজীবের ফেসবুক পোস্টে কটাক্ষের কমেন্টের ঝড়

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরো: পদ থেকে ইস্তফা দিতেই রাজীবের ফেসবুক পোস্টে কটাক্ষের কমেন্টের ঝড়। মন্ত্রীপদ ত্যাগ করেছেন আগেই। এবার ছাড়লেন বিধায়ক পদও। রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় ধীরে ধীরে বিজেপিতে যোগদানের দিকেই এগোচ্ছেন। আজ বিধানসভায় অধ্যক্ষের কাছে নিজের ইস্তফাপত্র জমা দেন রাজীব। আর পদত্যাগের কথা জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেন রাজীব। যে পোস্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রাক্তন বনমন্ত্রী।

আরও পড়ুন: প্রস্তুতি সারতে হবে রাজ্যের ১১২টি পুরসভার নির্বাচনের, নির্দেশ কলকাতা হাই কোর্টের ।

দল থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর আজ রাজীব বন্দোপাধ্যায় নিজের ফেসবুকে তিনি লেখেন ” আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা সাথে আমি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সদস্য হিসেবে পদত্যাগ করছি। পশ্চিমবঙ্গের জনগণের জন্য সেবা করা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি, আমার মেয়াদে প্রায় ১০ বছরের সময় কালে আমি যা অর্জন করেছি তাতে আমি সন্তুষ্ট। আপনি আমার মধ্যে যা আস্থা রেখেছেন তা আমি গভীরভাবে উপলব্ধি করি। আমার প্রতি আস্থা আনার জন্য ডোমজুড়ের নির্বাচনী এলাকার জনগণকে ধন্যবাদ জানাই এবং আমি আপনাদের সকলের পাশে থাকার এবং ভবিষ্যতে আপনার এবং বাংলার উন্নতির জন্য কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। সবাইকে এবং আমার প্রিয় সদস্যদের আইনসভার সদস্যদের ভবিষ্যতের শুভ কামনা করছি।” তবে তাঁর পোস্ট এর পর এসেছে একের পর এক কটাক্ষ বার্তা। কেউ বলেছেন শুভ বুদ্ধির উদয় হোক কেউ বলেছেন দিলীপ ঘোষ আপনাকে কাজ করতে দেবে? আবার কেউ লিখেছেন আপনি এইটুকু শুধু জেনে রাখুন আপনার পরিচিতি শুধুমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দৌলতে হয়েছে নচেত্‍ আপনাকে আমরা কেউই চিনতাম না। তাই অহংকার ভালো কিন্তু উদ্ধত্য একদমই ভালো নয়। আর এটা নিশ্চয়ই জানেন অহংকারই মানুষের পতন ডেকে আনে। আবার একজন লিখেছেন সব চোরের দল ছেড়ে চলে গেলে দলটার শুদ্ধিকরণ হচ্ছে। আবার একজন লিখেছেন বিকৃত বেইমান রাজীব ব্যানার্জি, রাজনৈতিকভাবে কালের অতলে তলিয়ে যাবে খুব শীঘ্রই। আবার একজন লিখেছেন হরে কৃষ্ণ হরে হরে সবকিছুর বিজেপির ঘরে । আবার একজন লিখেছেন নাটক কম করে বিজেপিতে যান। একজন লিখেছেন ফেরাতে হাল ধরে লাল।আবার একজন কমেন্টসে লিখেছেন যেটা আপনার ইচ্ছা সেটাই করুন। কিন্তু দয়া করে আপনার ফেসবুক প্রোফাইল এর কভার থেকে দিদির ছবিটা সরান। কারণ যে বিশ্বাসঘাতকতা আপনি দিদির সাথে করলেন এরপর আপনার কোন অধিকার নেই দিদির ছবি রাখার। আবার কেউ লিখেছেন বিশ্বাস অর্জন করা খুব কষ্টের বিশ্বাস ভাঙ্গা শুধুই হাতের চুটকি। একজন লিখেছেন আমি একজন হাওড়াবাসী। কিন্তু দলের আজ দুর্দিনে আপনি দল ছেড়ে চলে যাচ্ছেন এটা মানতে নারাজ আমি। আর যদি বিজেপিতে যােগদান করেন তাহলে আর কোন সম্মান করতে পারবােনা। আবার একজন লিখেছেন আপনি ঠিক করেছেন বিজেপি জিন্দাবাদ। একজন লিখেছেন বন সহায়ক পদে বিস্তর দুর্নীতি করে এখন সাধু হতে চলেছেন।

পদ থেকে ইস্তফা দিতেই রাজীবের ফেসবুক পোস্টে কটাক্ষের কমেন্টের ঝড়। অবশ্য কেউ কেউ সমর্থনও করেছেন। যদিও সে সংখ্যাটা খুবই কম। একজন লিখেছেন দাদা আমরা আপনার পাশে আছি এই লড়াইয়ে আপনার জয় হবেই হবে। আবার পরক্ষণেই একজন কটাক্ষের সুরে লিখেছেন ট্রেন ছেড়ে দেবে তাড়াতাড়ি প্রবীর ঘােষাল কে নিয়ে উঠে পড়ুন। একজন লিখেছেন আপনার প্রতি যে ভালােবাসা শ্রদ্ধা ছিল সেটা আজ থেকে আর থাকবে না। আপনার মুখে আর সততা শব্দটা আর মানায় না। আর প্লিজ লােক দেখানাে কান্নাটা কাঁদবেন না। মানুষ আপনার ধাপ্পাবাজি বুঝে গিয়েছে। উল্লেখ্য আজ বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর রবিবার অমিত শাহের মঞ্চে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় কে দেখা যেতে পারে সেই নিয়ে জল্পনা এখন তুঙ্গে। অন্যান্য সকলের মতই ধাপে ধাপে রাজীব বিজেপির দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞমহল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর