গত বছর তৃণমূলের শহীদ সমাবেশের মঞ্চে বক্তৃতা দিয়ে সকলের নজর কেড়েছিলেন তৃণমূলের ছাত্রনেত্রী রাজন্যা হালদার। দলের সুপ্রিমো তথা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে তাঁকে মঞ্চে বক্তৃতা দেওয়ার কথা বলেছিলেন। এরপর দলের হয়েছে একাধিক কর্মসূচিতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। বছর ঘুরতেই প্রকাশ্যে আসছে এক গুঞ্জন। তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন রাজন্যা (Rajanya Halder)। বঙ্গ বিজেপির নেতৃত্বরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলেও খবর সূত্রে। বিজেপিতে যোগ দিলে কি আসন্ন লোকসভায় তাঁকে প্রার্থী করতে পারে গেরুয়া শিবির? এই প্রশ্নই উঠছে।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর সভায় যেতে বাধা, সন্দেশখালির নির্যাতিতারা বললেন-‘চাপ এলেও যাব’
সূত্রে খবর, জনপ্রিয় ছাত্রনেত্রী রাজন্যা হালদারকে লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী করতে চায় বিজেপি (BJP)। সেই কারণেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে গেরুয়া শিবির। আগামী ৭ মার্চের মধ্যে মতামত জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে রাজন্যার বক্তব্য ভাইরাল হয়েছিল। তারপর থেকেই বঙ্গ রাজনীতির নতুন মুখ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। ছাত্রনেত্রীর সেই জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে লোকসভায় ময়দানে নামতে চায় বিজেপি। জানা গিয়েছে, বিজেপি প্রার্থীর তরফে তাঁর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে। তাঁকে লোকসভায় প্রার্থী করতে চায় পদ্ম শিবির। ৭ তারিখের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে রাজন্যাকে। এমনকি বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের (Sukanta Majumdar) সঙ্গে বৈঠক করার জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে। তবে রাজন্যা দল ছাড়বেন কি না এখনও স্পষ্ট জানা যায়নি।

রাজন্যা হালদার প্রেসিডেন্সির প্রাক্তনী। তৃণমূলের ছাত্র পরিষদের (TMCP) সক্রিয় সদস্য। তাঁর বাড়ি সোনারপুরে। ২০১৭ সাল থেকেই রাজনীতির ময়দানে রয়েছেন তিনি। রাজন্যার বাবা ও দাদু কংগ্রেস করতেন। তবে ছাত্রনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত বলে জানিয়েছিলেন। প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর হাত ধরেই তৈরি হয়েছিল তৃণমূলের সংগঠন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) তৈরি ‘জয়ী’ ব্যান্ডের একজন সদস্যা রাজন্যা। ২১ জুলাইয়ের প্রস্তুতির সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সভামঞ্চ দেখতে আসেন। সেইসময়েই তিনি রাজন্যাকে দেখে মঞ্চে বক্তৃতা দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান।
বিজেপিতে যোগ দেবেন ছাত্রনেত্রী রাজন্যা! লোকসভায় প্রার্থী করতে চায় গেরুয়া শিবির

২১ জুলাইয়ের (21 July TMC Meeting) মঞ্চে দাঁড়িয়ে জোর গলায় নিজের বক্তব্য রেখেছিলেন রাজন্যা হালদার। তিনি বলেছিলেন, ‘আশা করব, আগামী ২১ জুলাই ধর্মতলায় নয় লালকেল্লায় পালন করব। বাংলার বীর কন্যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের দিল্লি চলোর ডাক দিয়েছেন। আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থাকব।’



