সংস্কৃতি-প্রীতি নাকি রাজনৈতিক কৌশল? ভার্চুয়াল সভায় মোদির সাজ নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরো : সংস্কৃতি-প্রীতি নাকি রাজনৈতিক কৌশল? রাজনৈতিক  কৌশলে কি বারবার বাংলার সংস্কৃতি ঐতিহ্য কে তুলে এনে বাজিমাত করতে চাইছেন মোদী জী!!! আর বেশি দেরি নেই বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের। নির্বাচনের দিন এগিয়ে আসছে যত প্রধানমন্ত্রীর মুখে ততই পাল্লা দিয়ে উঠে আসছে বাংলা- সংস্কৃতির চিত্র।কখনো রবিঠাকুর,কখনো সভার ছবিতে দক্ষিণেশ্বরের কালি মন্দির।

আরও পড়ুনঃ শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের খুশি রাখতে, মাসে ৪০ কোটি খরচ করতেন কয়লা মাফিয়া লালা!

আর এবার ৫৫ বছর পর  দুই বাংলার মধ্যে খুলে যাওয়া হলদিবাড়ি- চিলাহাটি উদ্বোধনে ভার্চুয়াল সভাতে বাঙালি -সাজে এসে চমকে দিলেন প্রধানমন্ত্রী। পরনে ছিল বাংলার তসরের  পাঞ্জাবি,কলকা পাড়ের শাল, এমনকি তাও তিনি নিয়েছিলেন সম্পূর্ণ বাঙালি কায়দায়।শুধু তাই নয়, ভার্চুয়াল সবার পিছনে ছিল কোচবিহারের ঐতিহ্য, সেখানের রাজবাড়ীর ছবি।

 ভোটের ঠিক আগে প্রধানমন্ত্রীর  এই বঙ্গপ্রীতি দেখে জোর চর্চা চলছে রাজনীতি মহলে, তাহলে কি বাংলার এই সংস্কৃতি প্রীতি বাংলার ভোটের কথা ভেবেই? দিনের পর দিন বাংলাকে অবহেলা করে হঠাৎ ভোটের আগেই কেনো সংস্কৃতির আবেগ নিয়ে চিন্তিত মোদী জী? হলদিবাড়ি – চিলাহাটি রেললাইনের এর এই সূচনা দীর্ঘ এক পর্যায়ে আবেগ। বাংলার বিভাজনের আগে এই পথেই চলত দার্জিলিং মেইল, দেশভাগের পর থেকে বন্ধ হয়ে যায় সেই যোগাযোগের , ১৯৬৫ সালের পাকিস্থানের যুদ্ধের পর বন্ধ হয়ে যায় পথ টুকুও। দীর্ঘ কাল বন্ধ থাকার পর মনমোহন সরকার আবার নতুন করে এই বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু করেন।তৎকালীন রেলমন্ত্রকের দায়িত্বে ছিলেন বর্তমান তৃণমূলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

হলদিবাড়ি- চিলাহাটি রেলপথের সূচনা নিঃসন্দেহে এক আনন্দের খবর, কিন্তু তার উদ্বোধনে হ ঠাৎই প্রধানমন্ত্রীর বাঙালি সেজে উপস্থিত হওয়াকে রাজনৈতিক কৌশল ছাড়া আর কিছুই মনে করছেননা রাজ্যবাসী।এমনকি হলদিবাড়ি কোচবিহার জেলার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সভাতে কোচবিহার রাজবাড়ীর ছবি ব্যবহার করলেও তাকে শুধু মাত্র ভোটের আগে বাংলার মানুষের মন জয়ের ইচ্ছা ছাড়া আর কিছুই ভাবতে চাইছেন না মানুষ। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূলের সভাপতি কৃষ্ণকুমার কল্যাণী জানিয়েছেন” প্রধানমন্ত্রী যতই মেকাপ করুন, তিনি বাঙালি হতে পারবেন না, বাঙালির কৃষ্টি সংস্কৃতি তার পক্ষে বোঝা সম্ভব নয় .”

সংস্কৃতি-প্রীতি নাকি রাজনৈতিক কৌশল? যদিও এই ঘটনায় বিজেপি দাবি করছে প্রধানমন্ত্রী সারা দেশের মানুষ,সেই দিক থেকে তিনি বাংলার ও মানুষ।।তিনি বাঙালি সাজে আসতেই পারেন। কিন্তু বাংলর এই অনুষ্ঠানে এই আবেগের দিনে বাঙালি সেজে উপস্থিত হয়ে বাংলার সুপ্রিমোকে ই সামিল করলেননা কেনো? এমনকি এই রেলপথের সূচনা কালের রেলমন্ত্রকের দায়িত্বেও ছিলেন মমতা,আর বাদ দেওয়া হল তাকেই!!

 তাই বিজেপি যতই সংস্কৃতি প্রীতির কথা বলুক না কেন  বাংলার প্রতি ভালোবাসা নাকি কেবলই রাজনৈতিক কৌশল তা নিয়ে বাংলার মানুষই তুলছে প্রশ্ন!!দিনের পর দিন বাংলাকে অবহেলা করে হঠাৎ ভোটের আগেই কেনো সংস্কৃতির আবেগ নিয়ে চিন্তিত মোদী জী?

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন