মার্কিন চাপের মধ্যেই পুতিনের ভারত সফর নিশ্চিত, মোদির সঙ্গে বৈঠকে বাড়ছে কূটনৈতিক গুরুত্ব

রুশ তেল কেনা নিয়ে আমেরিকার আপত্তির মাঝেই ডিসেম্বরের শুরুতে দিল্লি আসছেন ভ্লাদিমির পুতিন। মোদির নিমন্ত্রণে ২৩তম Indo-Russia Summit ঘিরে তুঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার গুরুত্ব।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভারত যে বিপুল পরিমাণে রুশ তেল আমদানি করছে, তা নিয়ে মার্কিন অসন্তোষ বহুদিনের। অনেকেই মনে করছেন, এই চাপের পরিস্থিতিতে পুতিনের সফর আরও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা দেবে। পুতিনের ভারত সফর বহুমুখী আলোচনার রাস্তা খুলে দেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, এখনও সম্পূর্ণ হয়নি Indo-Russia Free Trade Agreement। এই সফরে সেই আলোচনা গতি পেতে পারে।

রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তেল বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, পারমাণবিক শক্তি প্রকল্প, আন্তর্জাতিক জোট রাজনীতি— সবই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মার্কিন চাপের মধ্যেই পুতিনের ভারত সফর নিশ্চিত, মোদির সঙ্গে বৈঠকে বাড়ছে কূটনৈতিক গুরুত্ব

বিদেশ মন্ত্রকের ঘোষণা— রাষ্ট্রপতি মুর্মুর সঙ্গেও বৈঠক করবেন পুতিন

ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক শুক্রবার জানিয়েছে: “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে রাশিয়ান ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ৪–৫ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ভারতে রাষ্ট্রীয় সফরে থাকবেন এবং ২৩তম India-Russia Annual Summit-এ যোগ দেবেন।”

পুতিনের ভারত সফর চলাকালীন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদি মুর্মুর সঙ্গেও সাক্ষাৎ হবে তাঁর। এই উচ্চস্তরের বৈঠক দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে সাহায্য করবে।

ক্রেমলিনের প্রস্তুতি এবং আগাম ইঙ্গিত

নভেম্বর থেকেই জল্পনা ছিল, শীঘ্রই ভারত সফরে আসতে পারেন পুতিন। ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছিলেন, সফরের দিন চূড়ান্ত করা হচ্ছে এবং দু’দেশের নেতৃত্বের মধ্যে আলোচনাও শুরু হয়ে গেছে।

গত এক বছরে মোদি-পুতিন দেখাসাক্ষাৎ বেড়েছে। জুলাই মাসে মস্কোতে অনুষ্ঠিত Indo-Russia Summit এবং অক্টোবরের BRICS সম্মেলনে তাঁদের বৈঠক দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতাতেই পুতিনের ভারত সফর এবার আরও তাৎপর্যপূর্ণ।

 মোদির সঙ্গে বৈঠকে বাড়ছে কূটনৈতিক গুরুত্ব
মোদির সঙ্গে বৈঠকে বাড়ছে কূটনৈতিক গুরুত্ব

ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও আলোচনা হতে পারে

বিশ্ব কূটনীতিতে ভারত এখন “Global Balancer” হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পশ্চিমা দেশগুলি যখন রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার পথ বেছে নিয়েছে, তখন ভারত নিজস্ব কৌশল ধরে রেখে মস্কোর সঙ্গে তেল ও প্রতিরক্ষা বাণিজ্য বজায় রেখেছে।

তাই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন—
পুতিনের ভারত সফর চলাকালীন ইউক্রেন যুদ্ধ ও তার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে মোদির সঙ্গে উচ্চস্তরের আলোচনা হতে পারে।

ফলত, পুতিনের ভারত সফর তাই আগের চেয়ে অনেক বেশি কৌশলগত

দুই দেশের রাজনৈতিক সমীকরণ, শক্তি বাণিজ্য, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক মঞ্চে সহযোগিতা— সব মিলিয়ে স্পষ্ট, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে হতে চলেছে ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। দিল্লি ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করেছে, এবং আন্তর্জাতিক মহল নজর রাখছে একটাই প্রশ্নে—
এই সফরে কি নতুন আকার পাবে Indo-Russia Partnership?

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত