পাঞ্জাব বিধানসভায় পাশ হওয়া Punjab Sacred City Decision ঘিরে সারা দেশে শুরু হয়েছে আলোচনার ঝড়। মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান জানিয়ে দিয়েছেন, শ্রীআনন্দপুর সাহিব, তলওয়ান্ডি সাবো এবং অমৃতসরের স্বর্ণমন্দির ঘিরে থাকা অংশকে ‘পবিত্র শহর’ ঘোষণা করা হবে। এর ফলে এই তিন শহরে মাংস, মদ ও তামাকজাত পণ্যের বিক্রি এবং ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ হতে চলেছে।
গুরু তেগ বাহাদুরের ৩৫০তম শহিদ দিবস উপলক্ষে রাজ্য সরকার এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, Punjab Sacred City Decision শুধু রাজনৈতিক পদক্ষেপ নয়, এটি পাঞ্জাবের সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং বিশ্বাসকে সম্মান জানানোর এক বিশেষ উদ্যোগ।
স্বর্ণমন্দিরের পাশে তিন শহরকে পবিত্র ঘোষণা, নিষিদ্ধ মদ-মাংস
মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান বলেন, “শিখদের পাঁচ তখতের মধ্যে তিনটি পাঞ্জাবে। এই স্থানগুলির মাহাত্ম্য রক্ষার দায়িত্ব আমাদের।” তিনি আরও জানান, পবিত্র শহরগুলির উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা বৃদ্ধি, নিরাপত্তা জোরদার এবং ধর্মীয় পর্যটন বিস্তারের জন্য আলাদা বাজেট বরাদ্দ করবে রাজ্য সরকার।
প্রথমবারের মতো চণ্ডীগড়ের বাইরে অনুষ্ঠিত পাঞ্জাব বিধানসভার অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে এই প্রস্তাব গ্রহণ হয়। এরপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, Punjab Sacred City Decision কোনও এক ধর্ম বা সম্প্রদায়ের দাবি নয়—এটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার বৃহত্তর প্রয়াস।

এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে তিনটি শহরেই মদ বিক্রির দোকান, মাংসের বাজার, হুক্কা-তামাকজাত পণ্য ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসা সবই বন্ধ হয়ে যাবে। প্রত্যেক পবিত্র শহরেই কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক টাস্কফোর্স গঠন করা হবে বলে সরকার সূত্রে জানা গেছে।
ভগবন্ত মানের মতে, “ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে পাঞ্জাবকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরাই আমাদের উদ্দেশ্য।” অনেক বিশ্লেষকের দাবি, এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের ধর্মীয়-পর্যটন খাতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে এবং প্রচুর দেশি-বিদেশি পর্যটক আকর্ষণ করবে।
ইতিমধ্যেই স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ এবং শিখ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় সংগঠনগুলি সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তাঁদের দাবি, বহুদিন ধরেই স্বর্ণমন্দির ও অন্যান্য পবিত্র স্থানের আশপাশে এমন নিষেধাজ্ঞার দাবি উঠছিল। এবার সরকারের এই পদক্ষেপ সেই দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করতে চলেছে।
অন্যদিকে, কিছু ব্যবসায়ী সংগঠন সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। তাঁদের মতে, হঠাৎ নিষিদ্ধ ঘোষণার ফলে বহু ছোট ব্যবসা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। সরকার জানিয়েছে, বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য ক্ষতিগ্রস্তদের বিশেষ স্কিম আনা হবে।
স্পষ্টতই, Punjab Sacred City Decision পাঞ্জাবের রাজনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে। সরকারের মতে, এই সিদ্ধান্ত আগামী দিনে পাঞ্জাবকে আরও পরিচ্ছন্ন, উন্নত এবং আন্তর্জাতিক ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবে।







