রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পুলকার দুর্ঘটনা লাগাতার বাড়তে থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে অভিভাবকদের মধ্যে। একের পর এক ফিটনেসবিহীন গাড়ি স্কুলপথে চলাচল করায় পরিস্থিতি ক্রমেই বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। সম্প্রতি উলুবেড়িয়ার ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে সর্বত্র। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার স্কুল বাস এবং পুলকার পরিষেবায় বড় ধরনের বদল আনতে চলেছে। পরিবহণ দফতর, পুলিশ, শিক্ষা দফতর এবং অভিভাবকদের সঙ্গে যৌথ বৈঠকে নেওয়া হবে নতুন নিরাপত্তা নীতিমালা।
২০২৪ সালের ২১ জুন যে নির্দেশিকাগুলি জারি হয়েছিল, তার বেশিরভাগই কার্যত মানা হয়নি বলে অভিযোগ। সেই কারণেই পুলকার দুর্ঘটনা রুখতে ফের কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে রাজ্য। বিভিন্ন পুলকার সংগঠনকে নিয়ে পরিবহণ দফতর শীঘ্রই বৈঠকে বসছে।
বাড়ছে পুলকার দুর্ঘটনা, নতুন নির্দেশিকা আনছে রাজ্য সরকার
সরকারের চূড়ান্ত লক্ষ্য স্কুল–পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সেই কারণে এবার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে গাড়ির বৈধ কাগজপত্র, নিয়মিত ফিটনেস টেস্ট, এবং একটি নির্ভুল লোকেশন ট্র্যাকিং ডিভাইস। ফিটনেসবিহীন কোনও গাড়ি যেন শিশু বহনে ব্যবহার না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোরতা।
পরিবহণ মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী জানিয়েছেন, নিরাপত্তার দিকটি বিবেচনায় রেখে গাড়ির জানলা ও দরজা এমনভাবে তৈরি করতে হবে যাতে কোনওভাবেই শিশু হাত বা মাথা বাইরে বার করতে না পারে। গাড়ির কাচ থাকতে হবে বাইরে থেকে দৃশ্যমান। পর্যাপ্ত আলো, ব্যাগ রাখার ব্যবস্থা, সিটবেল্ট, এবং ফার্স্ট-এইড বক্স বাধ্যতামূলক। আগুন লাগা ঠেকাতে থাকবে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
স্কুলগুলির ক্ষেত্রেও আসছে নতুন বিধান। প্রতি স্কুলে একজন করে ট্রান্সপোর্ট ম্যানেজার নিয়োগ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। তিনি পরিবহণ দফতরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখবেন এবং পুরো পরিবহণ ব্যবস্থার দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। শিশুদের স্কুলে আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের পরামর্শ অনুযায়ী বাণিজ্যিক গাড়ি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ফিটনেস সার্টিফিকেট থেকে শুরু করে ট্র্যাকিং সিস্টেম—সব ব্যবস্থাই নির্দিষ্ট সময় অন্তর রিনিউ করতে হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। নিয়ম ভাঙলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিবহণ দফতর মনে করছে, নানা উদাসীনতা ও অবহেলাই পুলকার দুর্ঘটনা বৃদ্ধির মূল কারণ। এ বার নতুন নির্দেশিকা কার্যকর হলে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে বিশ্বাস সরকারের। অভিভাবক মহলেও প্রত্যাশা—এই উদ্যোগ স্কুল–গাড়ির নিরাপত্তায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আনবে।
স্কুল, সরকার, অভিভাবক এবং গাড়ি মালিক—সকলকে জড়িয়ে এই নতুন পরিকল্পনা শিশুদের যাতায়াতকে আরও নিরাপদ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। এখন নজর সেই বৈঠকের দিকে, যেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে রাজ্যের বিস্তৃত নির্দেশিকা নিয়ে।







