রাজ্য রাজনীতিতে ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। কয়েকদিন আগেই তাঁর বালিগঞ্জের বাড়িতে গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই সাক্ষাতের রেশ কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করলেন টলিউডের ‘ইন্ডাস্ট্রি’। আর তারপর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা—এ কি শুধুই সৌজন্য সাক্ষাৎ, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনও সমীকরণ?
সোমবার প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এবং বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। প্রায় ১৫ মিনিটের সেই বৈঠকের পর থেকেই অভিনেতার সম্ভাব্য রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়।
এই আবহেই বৃহস্পতিবার নবান্নে প্রসেনজিতের উপস্থিতি সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের অনুমান, আসন্ন রাজ্যসভা উপনির্বাচনকে সামনে রেখেই এই ধারাবাহিক বৈঠকগুলিকে ঘিরে নানা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি তিনটি রাজ্যসভা আসনে উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক-এর পদত্যাগে শূন্য হওয়া আসনগুলিতে আগামী ২৪ জুলাই ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সংখ্যার নিরিখে এই আসনগুলিতে বিজেপির জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই কারণেই প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে রাজ্যসভায় পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
তবে এই সম্ভাবনা নিয়ে এখনও পর্যন্ত বিজেপি বা প্রসেনজিৎ—কোনও পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খোলেনি। অতীতেও ভোটের সময় বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার এবং শমীক ভট্টাচার্য প্রসেনজিতের বাড়িতে গিয়ে দেখা করেছিলেন। চলতি বছর পদ্মশ্রী সম্মান পাওয়ার পর থেকেই গেরুয়া শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ আরও বেড়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
এদিন নবান্নে প্রসেনজিৎ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী শতাব্দী রায় এবং প্রাক্তন ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান। তবে তাঁদের বৈঠকের বিষয়বস্তু সম্পর্কে সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি।
অন্যদিকে, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং বিজেপি—উভয় পক্ষই অতীতে বারবার জানিয়েছে, এই ধরনের সাক্ষাৎ শুধুমাত্র সৌজন্য সাক্ষাৎ। তবু অমিত শাহের বাড়িতে যাওয়া এবং তার অল্প দিনের মধ্যেই নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক—এই ধারাবাহিক ঘটনাপ্রবাহকে ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে রাজ্যসভায় পাঠানো হবে বা তিনি বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন—এমন কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও পর্যন্ত করা হয়নি। ফলে এই মুহূর্তে বিষয়টি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক জল্পনার পর্যায়েই রয়েছে।






