পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থায় আবারও দুর্নীতির কালো ছায়া ঘনিয়ে আসছে। ইতিমধ্যেই স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে রাজ্য কাঁপছে। তার মধ্যেই এবার সামনে এল আরও উদ্বেগজনক পূর্বাভাস। আইনজীবী ফিরদৌস শামিম স্পষ্ট জানালেন, আসন্ন প্রাইমারি টেট (TET) পরীক্ষার ফলাফল এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যে দুর্নীতির ইঙ্গিত মিলছে, তা এসএসসি কেলেঙ্কারিকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
শামিম এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “এসএসসি দুর্নীতি ভয়াবহ হলেও প্রাইমারির দুর্নীতি আরও ভয়ঙ্কর হতে চলেছে।” তাঁর দাবি, প্রাইমারিতে দুর্নীতির প্রকৃতি ও পরিমাণ এতটাই বিস্তৃত হতে পারে যে লক্ষ লক্ষ চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।


৩২০০০ প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিল হচ্ছেই? অন্ধকারে লক্ষ লক্ষ চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ

এসএসসি দুর্নীতির প্রতিচ্ছবি
শামিমের বক্তব্যকে বোঝাতে হলে প্রথমে দেখতে হবে এসএসসি নিয়োগ কেলেঙ্কারির দিকে। কমিশন নিজেই প্রায় ৬,২৭৬টি অবৈধ নিয়োগের কথা স্বীকার করেছে। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও “টেন্টেড” প্রার্থীদের পূর্ণ তালিকা প্রকাশে গড়িমসি করা হচ্ছে। তথ্য গোপন এবং স্বচ্ছতার অভাব গোটা প্রক্রিয়াকে জটিল করেছে।
আইনজীবীর মতে, যদি একই চক্র এবং মানসিকতা প্রাইমারি নিয়োগেও সক্রিয় থাকে, তবে সেখানে দুর্নীতির মাত্রা আরও মারাত্মক হবে। এর প্রভাব সরাসরি পড়বে কয়েক লক্ষ যোগ্য চাকরিপ্রার্থীর জীবনে।
হাইকোর্টে মামলা ও ৩২,০০০ চাকরি বাতিলের আশঙ্কা
বর্তমানে কলকাতা হাইকোর্টে চলছে প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিল সংক্রান্ত মামলা। বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি শুরু হয়েছে। এখানে মূলত ৩২,০০০ অপ্রশিক্ষিত প্রাথমিক শিক্ষকের নিয়োগ বাতিলের প্রশ্নে তর্ক হচ্ছে।


মামলার নম্বর ৮৭৩/২০২৩, যেখানে পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ড এবং প্রিয়াঙ্কা নস্করের মধ্যে বিতর্ক চলছে। শুধু তাই নয়, এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও ১১১টিরও বেশি কানেক্টেড অ্যাপ্লিকেশন, যা মামলাটিকে আরও জটিল করেছে। আজ, ১১ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টো থেকে শুনানি শুরু হওয়ার কথা।
স্বচ্ছতার দাবি ও আশঙ্কা
ফিরদৌস শামিমের মতে, এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো পূর্ণ স্বচ্ছতা। যদি এসএসসি-র মতো প্রাইমারি নিয়োগেও তথ্য গোপন করা হয়, তবে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাবে। তাঁর কড়া সতর্কবার্তা— “সরকার যদি অবিলম্বে দুর্নীতির তদন্ত ও অভিযুক্তদের নাম প্রকাশ না করে, তবে চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষোভ গণবিস্ফোরণে পরিণত হতে পারে।”
শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির এই বিস্ফোরক ইঙ্গিত নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। আদালতের রায় এবং সরকারের পদক্ষেপ এখনই নির্ধারণ করবে, পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ লক্ষ চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে।









